প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু হারাম।
ইসলাম > Bn > হাদিস > ফকহ ও উসল ফকহ > প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু হারাম।
হাদিস বর্ণনাকারী: ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন
সহীহ
27 অক্টোবর 2026 তারিখ 14h02 এ আপডেট করা হয়েছে
📖 1 মিনিটের পাঠ
হাদিসের পাঠ: প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু হারাম।
عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ أَبِي مُوسَى الأَشْعَريِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَهُ إِلَى اليَمَنِ، فَسَأَلَهُ عَنْ أَشْرِبَةٍ تُصْنَعُ بِهَا، فَقَالَ: وَمَا هِيَ؟، قَالَ: «البِتْعُ وَالمِزْرُ»، فَقِيلَ لِأَبِي بُرْدَةَ: مَا البِتْعُ؟ قَالَ: نَبِيذُ العَسَلِ، وَالمِزْرُ: نَبِيذُ الشَّعِيرِ، فَقَالَ: «كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ» خرجه البخاري.
وَخَرَّجَهُ مُسْلِمٌ وَلَفْظُهُ: قَالَ: بَعَثَنِي رَسُولُ اَلله أَنَا وَمُعَاذٌ إِلَى اَليَمَنِ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولُ اَللَّهِ! إِنَّ شَرَابًا يُصْنَعُ بِأَرْضِنَا يُقَال لَهُ: المِزَرُ مِنَ الشَّعِيرِ، وَشَرَابٌ يُقَالُ لَهُ: البِتْعُ مِنَ العَسَلِ، فَقَالَ: «كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ».
وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: «فَقَالَ: كُلُّ مَا أَسْكَرَ عَنِ الصَّلَاةِ فَهُوَ حَرَامٌ».
وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ: «وَكَانَ رَسُولُ الله قَدْ أُعْطِيَ جَوَامِعَ الكَلِمِ بِخَوَاتِمِهِ، فَقَالَ: أَنْهَى عَنْ كُلِّ مُسْكِرٍ أَسْكَرَ عَنْ الصَّلَاةِ».
হাদিসের ব্যাখ্যা: প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু হারাম।
আবু মূসা আশ'আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু জানিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ইয়ামানে পাঠিয়েছিলেন। সে এমন কিছু পানীয় সম্পর্কে নবীকে জিজ্ঞাসা করেছিল যা সেখানে তৈরি হত: তা কি হারাম? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন সেই পানীয়গুলো সম্পর্কে জানতে চাইলেন। অতঃপর আবু মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: বিত‘ হলো মধুর নাবীয, আর মিযর হলো যবের নাবীয। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি সংক্ষিপ্তভাবে বহু অর্থবোধক বাক্য বলতে পারতেন, বললেন: “প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু হারাম”।
শিক্ষা: প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু হারাম।
- নবীয হলো এমন পানি যাতে খেজুর, মধু, যব (শস্য) বা এর মতো অন্য কোনো জিনিস ডুবিয়ে রাখা হয়; যার ফলে পানি মিষ্টি স্বাদ পায় এবং পরবর্তীতে তা মদ হয়ে নেশাজাতীয় বস্তুতে রূপান্তরিত হতে পারে।
- এই হাদীসটি সব ধরনের নেশাজাতীয় বস্তু যেমন মদ, গাঁজা (হাশিশ) ইত্যাদি হারামের উপর একটি মূল নীতি।
- একজন মুসলিমের যা প্রয়োজন, তা সম্পর্কে প্রশ্ন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রথমবার মদ হারাম করা হয়েছিল সালাত আদায়ের সময়। কারণ, একবার এক মুহাজির সাহাবি সালাতে দাঁড়িয়ে কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন, কিন্তু তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন, ফলে তিলাওয়াতে গণ্ডগোল করে ফেলেন। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাজিল করেন: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ} [النساء: 43] “হে ঈমানদাররা! তোমরা সালাতের ধারে-কাছে যেও না, যখন তোমরা নেশাগ্রস্ত, যতক্ষণ না বুঝতে পারো যা কিছু তোমরা বলছো।” [সূরা নিসা:৪৩] এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘোষক ঘোষণা দিতে থাকেন: ‘নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি যেন সালাতের ধারে-কাছে না আসে।’ এরপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মদকে সম্পূর্ণরূপে হারাম করে দেন এই আয়াতের মাধ্যমে: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ 90 إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ} [المائدة: 90، 91] “হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্য নির্ধারণের তীর — এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ; অতএব এসব থেকে বিরত থাকো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো। শয়তান তো চায় মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে তোমাদের বিরত রাখতে। তবে কি তোমরা বিরত হবে?” [সূরা মায়েদা:৯০,৯১]
- আল্লাহ তা‘আলা মদকে হারাম করেছেন; কেননা এতে ব্যাপক ক্ষতি এবং ধংসাত্মক বিষয় রয়েছে।
- হারামের হুকুম দেওয়ার মূল কারণ হলো — নেশা সৃষ্টি করার উপাদান থাকা। যদি কোনো নবীয নেশা সৃষ্টি করে, তাহলে তা হারাম। আর যদি নেশার গুণ না থাকে, তবে তা বৈধ।
বিভাগ :
খাদ্য ও পানীয়
· হারাম পানীয়
· ফিকহ ও উসূলে ফিকহ
بسم الله الرحمن الرحيم
মঙ্গল 15 জুমাদাল উলা
الثلاثاء 15 جمادى الأولى
حسبنا الله ونعم الوكيل
আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, কতই না উত্তম অভিভাবক