তাহলে আমাকে সাক্ষী রেখো না। কারণ, আমি যুলুমের ব্যাপারে সাক্ষী হই না।”
ইসলাম > Bn > হাদিস > পরবর বষয়ক মসআল মসয়ল > তাহলে আমাকে সাক্ষী রেখো না। কারণ, আমি যুলুমের ব্যাপারে সাক্ষী হই না।”
হাদিস বর্ণনাকারী: সহীহ বুখারী ও মুসলিম, হাদীসটির বিভিন্ন শব্দমালা রয়েছে।
সহীহ
27 অক্টোবর 2026 তারিখ 14h02 এ আপডেট করা হয়েছে
📖 1 মিনিটের পাঠ
হাদিসের পাঠ: তাহলে আমাকে সাক্ষী রেখো না। কারণ, আমি যুলুমের ব্যাপারে…
হাদিসের ব্যাখ্যা: তাহলে আমাকে সাক্ষী রেখো না। কারণ, আমি যুলুমের ব্যাপারে…
নু‘মান ইবনে বশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর মা আমরাহ বিনত রাওয়াহা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁর বাবাকে তাঁর সম্পদের কিছু অংশ তাঁর পুত্রকে দান করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তাঁর বাবা কিছুটা দেরি করেছিলেন এবং এক বছর পরে তিনি তাঁর অনুরোধ মেনে নিলেন এবং তাঁর পুত্র নুমানকে কিছু দান করলেন। তখন তাঁর মা বললেন: আমি ততক্ষণ পর্যন্ত সন্তুষ্ট হব না যতক্ষণ না আপনি আমার পুত্রকে যা দান করেছেন তার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাক্ষী করবেন। তখন আমার বাবা আমার হাত ধরে নিয়ে গেলেন, আমি তখন ছোট একটি বালক ছিলাম, এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এই ছেলের মা রাওয়াহার কন্যা, সে চায় যে আমি তার পুত্রকে যা দান করেছি তার জন্য আপনাকে সাক্ষী করি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: হে বাশীর! তোমার কি এই ছেলেটি ছাড়া আর কোনো সন্তান আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তুমি কি অন্যান্য সকল সন্তানদের জন্যও এরকম উপহার দিয়েছ? তিনি বললেন: না। তখন বললেন: তাহলে আমাকে সাক্ষী করো না, কারণ আমি অন্যায় এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে পারি না। মুসলিমের বর্ণনায় আছে: তাকে তিরস্কার করে বললেন: তবে এই অন্যায়ের উপরে আমি ছাড়া অন্য কাউকে সাক্ষী কর।
শিক্ষা: তাহলে আমাকে সাক্ষী রেখো না। কারণ, আমি যুলুমের ব্যাপারে…
- সন্তানদের মধ্যে দান ও উপহারের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক, তবে খরচ নির্ধারিত হবে তাদের প্রত্যেকের প্রয়োজন অনুযায়ী।
- সন্তানদের মধ্যে একজনকে অপরজনের উপর প্রাধান্য দেওয়া জুলুম ও অবিচারের অন্তর্ভুক্ত, এবং এই ধরনের পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে সাক্ষী হওয়া বা সাক্ষ্য প্রদান করা জায়েয নয়।
- ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন: সন্তানদের মধ্যে হাদিয়া বা উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে সমতা অবলম্বন করা উচিত। প্রত্যেক সন্তানকে সমানভাবে দেওয়া উচিত এবং কোনো সন্তানকে অন্যদের উপর প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেছেন, ছেলে ও মেয়ে উভয়ের মধ্যে সমতা বজায় রাখা উচিত। তবে আমাদের কিছু আলেম বলেছেন, ছেলেকে মেয়ের দ্বিগুণ দেওয়া উচিত। কিন্তু সঠিক ও প্রসিদ্ধ মত হলো, হাদিয়া বা উপহারের ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে সমতা বজায় রাখা আবশ্যক, কারণ হাদীসের বাহ্যিক অর্থ এটাই নির্দেশ করে।
- শরিয়তের বিপরীতে যে সমস্ত রায় বা সিদ্ধান্ত দেয়া হয়, তা বাতিল বলে গণ্য হয় এবং কার্যকর হবে না।
- বিচারক ও মুফতির জন্য এমন বিষয়ে বিস্তারিত জানা আবশ্যক, যা বিস্তারিত জানার দাবি রাখে; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তুমি কি তোমার সব সন্তানের সাথে এমনটি করেছ?"
- ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন: এতে এ বিষয়টি প্রমাণ হয় যে, পিতার জন্য তার সন্তানকে দেওয়া হাদিয়া (উপহার) ফিরিয়ে নেওয়া জায়েয।
- ভাই-বোনের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে এমন কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এমন সব কাজ পরিহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা তাদের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা পিতামাতার প্রতি অবাধ্যতা ও অসদাচরণের জন্ম দেয়।
বিভাগ :
পরিবার বিষয়ক মাসআল-মাসায়েল
· নবজাতক সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী
· ফিকহ ও উসূলে ফিকহ
· সন্তানদের ভরণপোষণ
بسم الله الرحمن الرحيم
মঙ্গল 15 জুমাদাল উলা
الثلاثاء 15 جمادى الأولى
سبحان الله وبحمده
আল্লাহর মহিমা ও প্রশংসা