আল্লাহ্‌ তা‘আলা এই আয়াতগুলো নাযিল করেছেন: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُو…

ইসলাম > Bn > হাদিস > আল করআনল করম ও করআন সকরনত ববধ বদয > আল্লাহ্‌ তা‘আলা এই আয়াতগুলো নাযিল করেছেন: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُو…

হাদিস বর্ণনাকারী: এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।

হাসান

27 অক্টোবর 2026 তারিখ 14h02 এ আপডেট করা হয়েছে

📖 3 মিনিটের পাঠ

হাদিসের পাঠ: আল্লাহ্‌ তা‘আলা এই আয়াতগুলো নাযিল করেছেন: {وَمَنْ لَمْ…

হাদিসের ব্যাখ্যা: আল্লাহ্‌ তা‘আলা এই আয়াতগুলো নাযিল করেছেন: {وَمَنْ لَمْ…

নবী মুহাম্মদের সময় মদিনার ইহুদীদের মধ্যে ছিলেন বানু কুরায়জা এবং বানু নাযীর। জাহিলি যুগে একে অপরের উপর প্রভাব বিস্তার করেছিল এবং এক দল অপর দলকে পরাজিত করেছিল। তারা এমন একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল যে, ক্ষমতাধর দল যেসব হত্যা করেছে তাদের প্রতি নিহত ব্যক্তির দাম হবে মাত্র পঞ্চাশ ওসাক (একটি ওজনের একক), আর ক্ষমতাহীন দল যদি ক্ষমতাধর দল থেকে কাউকে হত্যা করে, তখন নিহত ব্যক্তির দাম হবে দ্বিগুণ, অর্থাৎ একশত ওসাক। এক ওসাক হল ষাট সা’ (সা‘ আরেকটি ওজনের একক)। তারা এই নিয়মে ছিল যতক্ষণ না নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় হিজরত করে আগমন করেন। তখন দুই দলই তাঁর আগমনে অনুগত হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখনো তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করেননি এবং তাদের ওপর তাঁর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেননি; কারণ এটি ছিল হিজরতের প্রথম সময় এবং তখন তিনি সন্ধির চুক্তি অবস্থায় ছিলেন। ইত্যবসরে ক্ষমতাহীন দল ক্ষমতাধর দলের একজন সদস্যকে হত্যা করল, ক্ষমতাধর দল ক্ষমতাহীন দলের কাছে তাদের চুক্তি অনুযায়ী একশত ওসাক পাঠানোর জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু ক্ষমতাহীন দল বলেন: কখনো কি এমন হয়েছে যে, একই সম্প্রদায়ের দুই পক্ষের, যাদের ধর্ম একই, বংশ একই এবং শহর একই, একজনের হত্যার ক্ষতিপূরণ অন্যজনের চেয়ে দ্বিগুণ হয়?! আমরা আপনাদের এই দণ্ড দিচ্ছিলাম আপনাদের অন্যায় ও ভয়ভীতি থেকে; কিন্তু এখন মোহাম্মদ এসে পৌঁছেছেন, আমরা আর কখনোই তা দিব না। তাদের মধ্যে প্রায় যুদ্ধ শুরু হবার উপক্রম হয়, তারপর তারা সম্মত হয় যে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের মধ্যে বিচার করবেন। পরে ক্ষমতাধর দল চিন্তা করে বলল:

"আল্লাহর কসম, মুহাম্মদ তোমাদের থেকে তাদেরকে যা দেন তার দ্বিগুণ তাদের থেকে তোমাদেরকে দিবেন না। তারা সত্য বলেছে, তারা আমাদেরকে এই অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়েছে শুধুমাত্র আমাদের অন্যায় ও তাদের উপর আমাদের প্রভাব বিস্তারের কারণে। কাজেই তোমরা গোপনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে কাউকে পাঠাও, যে তোমাদের জন্য তাঁর মতামত নিয়ে আসবে। যদি তিনি তোমাদের চাওয়া অনুযায়ী দেন, তাহলে তোমরা তাঁকে বিচারক মানবে, আর যদি তোমাদের চাওয়া তোমাদের না দেন, তাহলে তাঁকে প্রত্যাখ্যান করবে এবং তাকে বিচারক মানবে না। তারা গোপনে কিছু মুনাফিককে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে পাঠাল, যেন তারা তাঁর মতামত জেনে আসতে পারে। কিন্তু যখন তারা নবীর কাছে পৌঁছাল, তখন আল্লাহ ওহির মাধ্যমে তাঁর রাসূলকে তাদের সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য ও চক্রান্ত সম্পর্কে জানিয়ে দিলেন। এরপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সূরা আল-মায়িদা-তে এই আয়াত নাযিল করলেন: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا آمَنَّا} “হে রাসূল, তোমাকে যেন তারা চিন্তিত না করে, যারা কুফরে দ্রুত ছুটছে—তাদের থেকে, যারা তাদের মুখে বলে ‘আমরা ঈমান এনেছি”। [সূরা আল-মায়িদা:৪১] হতে {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمِ الْفَاسِقُونَ} [المائدة: 47] “আর আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার মাধ্যমে যারা ফয়সালা করে না, তারাই ফাসিক”। [মায়েদা:৪৭] তারপর ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আল্লাহর কসম, আল্লাহ তাদের ব্যাপারেই নাযিল করেছেন: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمِ الْكَافِرُونَ} [المائدة: 44] “আর যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তা অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই তো কাফের”। [আল-মায়িদা: ৪৪] এবং و{...فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} [المائدة: 45] "...তাহলে তারাই তো জালিম"। [মায়েদা:৪৫] আর {...فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} [المائدة: 47] "…তাহলে তারাই তো ফাসিক”। [আল-মায়িদা:৪৭], — প্রকৃতপ্রস্তাবে আল্লাহ্‌ তা‘আলা এই দুই সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করেছেন।

শিক্ষা: আল্লাহ্‌ তা‘আলা এই আয়াতগুলো নাযিল করেছেন: {وَمَنْ لَمْ…

বিভাগ : আল-কুরআনুল কারীম ও কুরআন সংক্রান্ত বিবিধ বিদ্যা · নাযিলের প্রেক্ষাপট · কুরআন নাযিল হওয়া ও তা একত্রিতকরণ

بسم الله الرحمن الرحيم মঙ্গল 15 জুমাদাল উলা
الثلاثاء 15 جمادى الأولى
بدر পূর্ণিমা দিন 16.5 / 29.5
আলোকিতকরণ 97%
13 দিনে অমাবস্যা
لا إله إلا الله আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই

إِنَّ ٱللَّهَ وَمَلَٰٓئِكَتَهُۥ يُصَلُّونَ عَلَى ٱلنَّبِىِّ ۚ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ صَلُّوا۟ عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا۟ تَسْلِيمًا

আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্যে রহমতের তরে দোয়া কর এবং তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ কর।

Al-Ahzab 33:56

নবীর প্রতি সালাত