“তুমি তো আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করেছো। তবে সেই ব্যক্তির জন্য এ ব্যাপারটা অত…

ইসলাম > Bn > হাদিস > আকদ > “তুমি তো আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করেছো। তবে সেই ব্যক্তির জন্য এ ব্যাপারটা অত…

হাদিস বর্ণনাকারী: এটি তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।

হাদিসটি এর বিভিন্ন সূত্রের সমন্বয়ে সহীহ।

27 অক্টোবর 2026 তারিখ 14h02 এ আপডেট করা হয়েছে

📖 3 মিনিটের পাঠ

হাদিসের পাঠ: “তুমি তো আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করেছো। ত…

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رضي الله عنه قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ، فَأَصْبَحْتُ يَوْمًا قَرِيبًا مِنْهُ وَنَحْنُ نَسِيرُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ أَخْبِرْنِي بِعَمَلٍ يُدْخِلُنِي الجَنَّةَ وَيُبَاعِدُنِي عَنِ النَّارِ، قَالَ: «لَقَدْ سَأَلْتَنِي عَنْ عَظِيمٍ، وَإِنَّهُ لَيَسِيرٌ عَلَى مَنْ يَسَّرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ، تَعْبُدُ اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلاَةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ، وَتَحُجُّ البَيْتَ» ثُمَّ قَالَ: «أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى أَبْوَابِ الخَيْرِ: الصَّوْمُ جُنَّةٌ، وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ، وَصَلاَةُ الرَّجُلِ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ» قَالَ: ثُمَّ تَلاَ: «{تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ}، حَتَّى بَلَغَ {يَعْمَلُونَ}» ثُمَّ قَالَ: «أَلاَ أُخْبِرُكَ بِرَأْسِ الأَمْرِ كُلِّهِ وَعَمُودِهِ، وَذِرْوَةِ سَنَامِهِ؟» قُلْتُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ: «رَأْسُ الأَمْرِ الإِسْلاَمُ، وَعَمُودُهُ الصَّلاَةُ، وَذِرْوَةُ سَنَامِهِ الجِهَادُ» ثُمَّ قَالَ: «أَلاَ أُخْبِرُكَ بِمَلاَكِ ذَلِكَ كُلِّهِ؟» قُلْتُ: بَلَى يَا نَبِيَّ اللهِ، فَأَخَذَ بِلِسَانِهِ قَالَ: «كُفَّ عَلَيْكَ هَذَا» فَقُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللهِ، وَإِنَّا لَمُؤَاخَذُونَ بِمَا نَتَكَلَّمُ بِهِ؟ فَقَالَ: «ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا مُعَاذُ، وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ أَوْ عَلَى مَنَاخِرِهِمْ إِلاَّ حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ».

হাদিসের ব্যাখ্যা: “তুমি তো আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করেছো। ত…

মুআয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম এবং একদিন হাঁটতে হাঁটতে তাঁর সান্নিধ্য পেলাম, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছু বলুন যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। তিনি বললেন: তুমি আমাকে আত্মার পক্ষে আঞ্জাম দেওয়া বড় কঠিন আমল (কর্ম) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছো তবে এটি তার জন্য সহজ স্বাভাবিক যার জন্য আল্লাহ তা সহজ করে দেন। ইসলামের ফরযগুলো আদায় করুন:

প্রথমটি: তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না।

দ্বিতীয়: তুমি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাতগুলো তার শর্ত রোকন ও ওয়াজিব সমূহ সহ আদায় করবে: ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও এশা।

তৃতীয়: ফরয যাকাত প্রদান করবে। এটি শরীয়তে নির্ধারিত পরিমাণ প্রত্যেক সম্পদে ওয়াজিব একটি অর্থ সম্পর্কিত ইবাদত, যা তার প্রাপ্যদের দেওয়া হয়।

চতুর্থ: রমজানের রোজা, যা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইবাদতের নিয়তে পানাহার ও অন্যান্য জিনিস থেকে বিরত থাকা।

পঞ্চম: তুমি আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করার জন্য মক্কার উদ্দেশ্যে কা‘বা গৃহের হজ করবে।

অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি কি তোমাকে সেই পথের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব না যা কল্যাণের দরজায় নিয়ে যায়? আর তা হলো সেই ফরযগুলোর সাথে নফল সালাতসমূহ আদায় করা:

প্রথমত: নফল সিয়াম, যা প্রবৃত্তিকে ভেঙ্গে এবং শক্তিকে দুর্বল করে পাপে পতিত হতে বাধা দেয়।

দ্বিতীয়ত: নফল দান করা, যা কৃত পাপকে নিঃশেষ ও দূর করে দেয় এবং এর প্রভাব মুছে ফেলে।

তৃতীয়ত: রাতের শেষ তৃতীয়াংশে তাহাজ্জুদের সালাত। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার বাণী পাঠ করলেন: {تتجافى جنوبهم} অর্থাৎ, তারা নিজেদেরকে {عن المضاجع} বিশ্রামের স্থানগুলো থেকে দূরে রাখে। {يدعون ربهم خوفا وطمعا } তারা ভয় ও আশায় তাদের রবকে ডাকেন সালাত, যিকির, তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে। {ومما رزقناهم ينفقون، فلا تعلم نفس ما أخفي لهم من قرة أعين} এবং আমি তাদের যা দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে, সুতরাং কোন নফস জানে না তাদের জন্য চোখ জুড়ানো কী জিনিস লুকিয়ে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, কিয়ামতের দিন এবং জান্নাতে তাদের চোখকে যা আনন্দিত করবে, {جزاء بما كانوا يعملون} তারা যা করত তার প্রতিদান স্বরূপ।

অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমি কি তোমাকে দ্বীনের মৌলিক বিষয়, তার স্তম্ভ যার উপর তা নির্ভর করে এবং তার কুঁজ (উঁচু ঝাণ্ডা) সম্পর্কে অবহিত করব না?

মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দীনের প্রধান বিষয় হল: ইসলাম, যা হলো দুটি সাক্ষ্য। আর এই দু’টির মাধ্যমে মানুষের সাথে দীনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। আর তার স্তম্ভ হল সালাত, সালাত ছাড়া ইসলাম নেই, যেভাবে স্তম্ভ ছাড়া ঘর হতে পারে না, কাজেই যে সালাত আদায় করল তার দীন মজবুত ও উন্নত হল। আর আল্লাহর বাণীকে উঁচু করার জন্য দীনের শত্রুদের সাথে লড়াই করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় ও জিহাদের মাধ্যমে তার কুঁজ (উঁচু মর্যাদা) এবং তার উচ্চতা সাব্যস্ত হয়।

অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি কি তোমাকে পূর্বে উল্লেখ করা বিষয়ের নির্ভুলতা এবং পরিপূর্ণতা সম্পর্কে অবহিত করব না? ফলে তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জিহ্বা ধরে বললেন: এটিকে বিরত রাখ এবং যা তোমার প্রয়োজন নেই সে বিষয়ে কথা বল না। মুয়াজ বললেন: আমরা যা বলি তার প্রত্যেক বিষয়ে আমাদের রব কি আমাদেরকে জবাবদিহি করবেন এবং শাস্তি দেবেন?

তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক! এর দ্বারা যা বোঝানো হয়েছে তা তার জন্য বদ-দো‘আ নয়, বরং যে বিষয়ে তার মনোযোগ দেওয়া উচিত ছিল এবং যে বিষয়টি তার জানা জরুরি ছিল সে বিষয়ে তাকে সতর্ক করার জন্য এটি আরবদের একটি কথা। তারপর তিনি বললেন: মুখের ফসল কুফর, মিথ্যারোপ, গালমন্দ, দোষচর্চা, গীবত, পরনিন্দা, অপবাদ ইত্যাদি ছাড়া আর কিসে তাদেরকে মুখের উপর ভর করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে?

শিক্ষা: “তুমি তো আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করেছো। ত…

বিভাগ : আকীদা · বিবিধ নাম ও বিধান · ইসলাম

بسم الله الرحمن الرحيم মঙ্গল 15 জুমাদাল উলা
الثلاثاء 15 جمادى الأولى
بدر পূর্ণিমা দিন 16.6 / 29.5
আলোকিতকরণ 96%
13 দিনে অমাবস্যা
سبحان الله وبحمده আল্লাহর মহিমা ও প্রশংসা

إِنَّ ٱللَّهَ وَمَلَٰٓئِكَتَهُۥ يُصَلُّونَ عَلَى ٱلنَّبِىِّ ۚ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ صَلُّوا۟ عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا۟ تَسْلِيمًا

আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্যে রহমতের তরে দোয়া কর এবং তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ কর।

Al-Ahzab 33:56

নবীর প্রতি সালাত