Muhiuddin Khan
কুরআনের জুজ 30-এ 564টি আয়াত রয়েছে, যা মুসহাফের 23টি পৃষ্ঠায় বিস্তৃত এবং 37টি সূরা অন্তর্ভুক্ত।
10 জুলাই 2026 তারিখ 03h52 এ আপডেট করা হয়েছে
coran.read_full_page : কুরআনের জুজ 30 পড়ুন →
عَمَّ يَتَسَآءَلُونَ ﴿١﴾
তারা পরস্পরে কি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?
عَنِ ٱلنَّبَإِ ٱلْعَظِيمِ ﴿٢﴾
মহা সংবাদ সম্পর্কে,
ٱلَّذِى هُمْ فِيهِ مُخْتَلِفُونَ ﴿٣﴾
যে সম্পর্কে তারা মতানৈক্য করে।
كَلَّا سَيَعْلَمُونَ ﴿٤﴾
না, সত্ত্বরই তারা জানতে পারবে,
ثُمَّ كَلَّا سَيَعْلَمُونَ ﴿٥﴾
অতঃপর না, সত্বর তারা জানতে পারবে।
أَلَمْ نَجْعَلِ ٱلْأَرْضَ مِهَـٰدًۭا ﴿٦﴾
আমি কি করিনি ভূমিকে বিছানা
وَٱلْجِبَالَ أَوْتَادًۭا ﴿٧﴾
এবং পর্বতমালাকে পেরেক?
وَخَلَقْنَـٰكُمْ أَزْوَٰجًۭا ﴿٨﴾
আমি তোমাদেরকে জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছি,
وَجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًۭا ﴿٩﴾
তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী,
وَجَعَلْنَا ٱلَّيْلَ لِبَاسًۭا ﴿١٠﴾
রাত্রিকে করেছি আবরণ।
وَجَعَلْنَا ٱلنَّهَارَ مَعَاشًۭا ﴿١١﴾
দিনকে করেছি জীবিকা অর্জনের সময়,
وَبَنَيْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعًۭا شِدَادًۭا ﴿١٢﴾
নির্মান করেছি তোমাদের মাথার উপর মজবুত সপ্ত-আকাশ।
وَجَعَلْنَا سِرَاجًۭا وَهَّاجًۭا ﴿١٣﴾
এবং একটি উজ্জ্বল প্রদীপ সৃষ্টি করেছি।
وَأَنزَلْنَا مِنَ ٱلْمُعْصِرَٰتِ مَآءًۭ ثَجَّاجًۭا ﴿١٤﴾
আমি জলধর মেঘমালা থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত করি,
لِّنُخْرِجَ بِهِۦ حَبًّۭا وَنَبَاتًۭا ﴿١٥﴾
যাতে তদ্দ্বারা উৎপন্ন করি শস্য, উদ্ভিদ।
وَجَنَّـٰتٍ أَلْفَافًا ﴿١٦﴾
ও পাতাঘন উদ্যান।
إِنَّ يَوْمَ ٱلْفَصْلِ كَانَ مِيقَـٰتًۭا ﴿١٧﴾
নিশ্চয় বিচার দিবস নির্ধারিত রয়েছে।
يَوْمَ يُنفَخُ فِى ٱلصُّورِ فَتَأْتُونَ أَفْوَاجًۭا ﴿١٨﴾
যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন তোমরা দলে দলে সমাগত হবে।
وَفُتِحَتِ ٱلسَّمَآءُ فَكَانَتْ أَبْوَٰبًۭا ﴿١٩﴾
আকাশ বিদীর্ণ হয়ে; তাতে বহু দরজা সৃষ্টি হবে।
وَسُيِّرَتِ ٱلْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا ﴿٢٠﴾
এবং পর্বতমালা চালিত হয়ে মরীচিকা হয়ে যাবে।
إِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتْ مِرْصَادًۭا ﴿٢١﴾
নিশ্চয় জাহান্নাম প্রতীক্ষায় থাকবে,
لِّلطَّـٰغِينَ مَـَٔابًۭا ﴿٢٢﴾
সীমালংঘনকারীদের আশ্রয়স্থলরূপে।
لَّـٰبِثِينَ فِيهَآ أَحْقَابًۭا ﴿٢٣﴾
তারা তথায় শতাব্দীর পর শতাব্দী অবস্থান করবে।
لَّا يَذُوقُونَ فِيهَا بَرْدًۭا وَلَا شَرَابًا ﴿٢٤﴾
তথায় তারা কোন শীতল এবং পানীয় আস্বাদন করবে না;
إِلَّا حَمِيمًۭا وَغَسَّاقًۭا ﴿٢٥﴾
কিন্তু ফুটন্ত পানি ও পূঁজ পাবে।
جَزَآءًۭ وِفَاقًا ﴿٢٦﴾
পরিপূর্ণ প্রতিফল হিসেবে।
إِنَّهُمْ كَانُوا۟ لَا يَرْجُونَ حِسَابًۭا ﴿٢٧﴾
নিশ্চয় তারা হিসাব-নিকাশ আশা করত না।
وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔايَـٰتِنَا كِذَّابًۭا ﴿٢٨﴾
এবং আমার আয়াতসমূহে পুরোপুরি মিথ্যারোপ করত।
وَكُلَّ شَىْءٍ أَحْصَيْنَـٰهُ كِتَـٰبًۭا ﴿٢٩﴾
আমি সবকিছুই লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষিত করেছি।
فَذُوقُوا۟ فَلَن نَّزِيدَكُمْ إِلَّا عَذَابًا ﴿٣٠﴾
অতএব, তোমরা আস্বাদন কর, আমি কেবল তোমাদের শাস্তিই বৃদ্ধি করব।
إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا ﴿٣١﴾
পরহেযগারদের জন্যে রয়েছে সাফল্য।
حَدَآئِقَ وَأَعْنَـٰبًۭا ﴿٣٢﴾
উদ্যান, আঙ্গুর,
وَكَوَاعِبَ أَتْرَابًۭا ﴿٣٣﴾
সমবয়স্কা, পূর্ণযৌবনা তরুণী।
وَكَأْسًۭا دِهَاقًۭا ﴿٣٤﴾
এবং পূর্ণ পানপাত্র।
لَّا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًۭا وَلَا كِذَّٰبًۭا ﴿٣٥﴾
তারা তথায় অসার ও মিথ্যা বাক্য শুনবে না।
جَزَآءًۭ مِّن رَّبِّكَ عَطَآءً حِسَابًۭا ﴿٣٦﴾
এটা আপনার পালনকর্তার তরফ থেকে যথোচিত দান,
رَّبِّ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ٱلرَّحْمَـٰنِ ۖ لَا يَمْلِكُونَ مِنْهُ خِطَابًۭا ﴿٣٧﴾
যিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা, দয়াময়, কেউ তাঁর সাথে কথার অধিকারী হবে না।
يَوْمَ يَقُومُ ٱلرُّوحُ وَٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ صَفًّۭا ۖ لَّا يَتَكَلَّمُونَ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ ٱلرَّحْمَـٰنُ وَقَالَ صَوَابًۭا ﴿٣٨﴾
যেদিন রূহ ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দিবেন, সে ব্যতিত কেউ কথা বলতে পারবে না এবং সে সত্যকথা বলবে।
ذَٰلِكَ ٱلْيَوْمُ ٱلْحَقُّ ۖ فَمَن شَآءَ ٱتَّخَذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ مَـَٔابًا ﴿٣٩﴾
এই দিবস সত্য। অতঃপর যার ইচ্ছা, সে তার পালনকর্তার কাছে ঠিকানা তৈরী করুক।
إِنَّآ أَنذَرْنَـٰكُمْ عَذَابًۭا قَرِيبًۭا يَوْمَ يَنظُرُ ٱلْمَرْءُ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ وَيَقُولُ ٱلْكَافِرُ يَـٰلَيْتَنِى كُنتُ تُرَٰبًۢا ﴿٤٠﴾
আমি তোমাদেরকে আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করলাম, যেদিন মানুষ প্রত্যেক্ষ করবে যা সে সামনে প্রেরণ করেছে এবং কাফের বলবেঃ হায়, আফসোস-আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম।
وَٱلنَّـٰزِعَـٰتِ غَرْقًۭا ﴿١﴾
শপথ সেই ফেরেশতাগণের, যারা ডুব দিয়ে আত্মা উৎপাটন করে,
وَٱلنَّـٰشِطَـٰتِ نَشْطًۭا ﴿٢﴾
শপথ তাদের, যারা আত্মার বাঁধন খুলে দেয় মৃদুভাবে;
وَٱلسَّـٰبِحَـٰتِ سَبْحًۭا ﴿٣﴾
শপথ তাদের, যারা সন্তরণ করে দ্রুতগতিতে,
فَٱلسَّـٰبِقَـٰتِ سَبْقًۭا ﴿٤﴾
শপথ তাদের, যারা দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয় এবং
فَٱلْمُدَبِّرَٰتِ أَمْرًۭا ﴿٥﴾
শপথ তাদের, যারা সকল কর্মনির্বাহ করে, কেয়ামত অবশ্যই হবে।
يَوْمَ تَرْجُفُ ٱلرَّاجِفَةُ ﴿٦﴾
যেদিন প্রকম্পিত করবে প্রকম্পিতকারী,
تَتْبَعُهَا ٱلرَّادِفَةُ ﴿٧﴾
অতঃপর পশ্চাতে আসবে পশ্চাদগামী;
قُلُوبٌۭ يَوْمَئِذٍۢ وَاجِفَةٌ ﴿٨﴾
সেদিন অনেক হৃদয় ভীত-বিহবল হবে।
أَبْصَـٰرُهَا خَـٰشِعَةٌۭ ﴿٩﴾
তাদের দৃষ্টি নত হবে।
يَقُولُونَ أَءِنَّا لَمَرْدُودُونَ فِى ٱلْحَافِرَةِ ﴿١٠﴾
তারা বলেঃ আমরা কি উলটো পায়ে প্রত্যাবর্তিত হবই-
أَءِذَا كُنَّا عِظَـٰمًۭا نَّخِرَةًۭ ﴿١١﴾
গলিত অস্থি হয়ে যাওয়ার পরও?
قَالُوا۟ تِلْكَ إِذًۭا كَرَّةٌ خَاسِرَةٌۭ ﴿١٢﴾
তবে তো এ প্রত্যাবর্তন সর্বনাশা হবে!
فَإِنَّمَا هِىَ زَجْرَةٌۭ وَٰحِدَةٌۭ ﴿١٣﴾
অতএব, এটা তো কেবল এক মহা-নাদ,
فَإِذَا هُم بِٱلسَّاهِرَةِ ﴿١٤﴾
তখনই তারা ময়দানে আবির্ভূত হবে।
هَلْ أَتَىٰكَ حَدِيثُ مُوسَىٰٓ ﴿١٥﴾
মূসার বৃত্তান্ত আপনার কাছে পৌছেছে কি?
إِذْ نَادَىٰهُ رَبُّهُۥ بِٱلْوَادِ ٱلْمُقَدَّسِ طُوًى ﴿١٦﴾
যখন তার পালনকর্তা তাকে পবিত্র তুয়া উপ্যকায় আহবান করেছিলেন,
ٱذْهَبْ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ إِنَّهُۥ طَغَىٰ ﴿١٧﴾
ফেরাউনের কাছে যাও, নিশ্চয় সে সীমালংঘন করেছে।
فَقُلْ هَل لَّكَ إِلَىٰٓ أَن تَزَكَّىٰ ﴿١٨﴾
অতঃপর বলঃ তোমার পবিত্র হওয়ার আগ্রহ আছে কি?
وَأَهْدِيَكَ إِلَىٰ رَبِّكَ فَتَخْشَىٰ ﴿١٩﴾
আমি তোমাকে তোমার পালনকর্তার দিকে পথ দেখাব, যাতে তুমি তাকে ভয় কর।
فَأَرَىٰهُ ٱلْـَٔايَةَ ٱلْكُبْرَىٰ ﴿٢٠﴾
অতঃপর সে তাকে মহা-নিদর্শন দেখাল।
فَكَذَّبَ وَعَصَىٰ ﴿٢١﴾
কিন্তু সে মিথ্যারোপ করল এবং অমান্য করল।
ثُمَّ أَدْبَرَ يَسْعَىٰ ﴿٢٢﴾
অতঃপর সে প্রতিকার চেষ্টায় প্রস্থান করল।
فَحَشَرَ فَنَادَىٰ ﴿٢٣﴾
সে সকলকে সমবেত করল এবং সজোরে আহবান করল,
فَقَالَ أَنَا۠ رَبُّكُمُ ٱلْأَعْلَىٰ ﴿٢٤﴾
এবং বললঃ আমিই তোমাদের সেরা পালনকর্তা।
فَأَخَذَهُ ٱللَّهُ نَكَالَ ٱلْـَٔاخِرَةِ وَٱلْأُولَىٰٓ ﴿٢٥﴾
অতঃপর আল্লাহ তাকে পরকালের ও ইহকালের শাস্তি দিলেন।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَعِبْرَةًۭ لِّمَن يَخْشَىٰٓ ﴿٢٦﴾
যে ভয় করে তার জন্যে অবশ্যই এতে শিক্ষা রয়েছে।
ءَأَنتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ ٱلسَّمَآءُ ۚ بَنَىٰهَا ﴿٢٧﴾
তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন না আকাশের, যা তিনি নির্মাণ করেছেন?
رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّىٰهَا ﴿٢٨﴾
তিনি একে উচ্চ করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন।
وَأَغْطَشَ لَيْلَهَا وَأَخْرَجَ ضُحَىٰهَا ﴿٢٩﴾
তিনি এর রাত্রিকে করেছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং এর সূর্যোলোক প্রকাশ করেছেন।
وَٱلْأَرْضَ بَعْدَ ذَٰلِكَ دَحَىٰهَآ ﴿٣٠﴾
পৃথিবীকে এর পরে বিস্তৃত করেছেন।
أَخْرَجَ مِنْهَا مَآءَهَا وَمَرْعَىٰهَا ﴿٣١﴾
তিনি এর মধ্য থেকে এর পানি ও ঘাম নির্গত করেছেন,
وَٱلْجِبَالَ أَرْسَىٰهَا ﴿٣٢﴾
পর্বতকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন,
مَتَـٰعًۭا لَّكُمْ وَلِأَنْعَـٰمِكُمْ ﴿٣٣﴾
তোমাদের ও তোমাদের চতুস্পদ জন্তুদের উপকারার্থে।
فَإِذَا جَآءَتِ ٱلطَّآمَّةُ ٱلْكُبْرَىٰ ﴿٣٤﴾
অতঃপর যখন মহাসংকট এসে যাবে।
يَوْمَ يَتَذَكَّرُ ٱلْإِنسَـٰنُ مَا سَعَىٰ ﴿٣٥﴾
অর্থাৎ যেদিন মানুষ তার কৃতকর্ম স্মরণ করবে
وَبُرِّزَتِ ٱلْجَحِيمُ لِمَن يَرَىٰ ﴿٣٦﴾
এবং দর্শকদের জন্যে জাহান্নাম প্রকাশ করা হবে,
فَأَمَّا مَن طَغَىٰ ﴿٣٧﴾
তখন যে ব্যক্তি সীমালংঘন করেছে;
وَءَاثَرَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا ﴿٣٨﴾
এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে,
فَإِنَّ ٱلْجَحِيمَ هِىَ ٱلْمَأْوَىٰ ﴿٣٩﴾
তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম।
وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِۦ وَنَهَى ٱلنَّفْسَ عَنِ ٱلْهَوَىٰ ﴿٤٠﴾
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল-খুশী থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে,
فَإِنَّ ٱلْجَنَّةَ هِىَ ٱلْمَأْوَىٰ ﴿٤١﴾
তার ঠিকানা হবে জান্নাত।
يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلسَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَىٰهَا ﴿٤٢﴾
তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, কেয়ামত কখন হবে?
فِيمَ أَنتَ مِن ذِكْرَىٰهَآ ﴿٤٣﴾
এর বর্ণনার সাথে আপনার কি সম্পর্ক ?
إِلَىٰ رَبِّكَ مُنتَهَىٰهَآ ﴿٤٤﴾
এর চরম জ্ঞান আপনার পালনকর্তার কাছে।
إِنَّمَآ أَنتَ مُنذِرُ مَن يَخْشَىٰهَا ﴿٤٥﴾
যে একে ভয় করে, আপনি তো কেবল তাকেই সতর্ক করবেন।
كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوٓا۟ إِلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحَىٰهَا ﴿٤٦﴾
যেদিন তারা একে দেখবে, সেদিন মনে হবে যেন তারা দুনিয়াতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক সকাল অবস্থান করেছে।
عَبَسَ وَتَوَلَّىٰٓ ﴿١﴾
তিনি ভ্রূকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
أَن جَآءَهُ ٱلْأَعْمَىٰ ﴿٢﴾
কারণ, তাঁর কাছে এক অন্ধ আগমন করল।
وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُۥ يَزَّكَّىٰٓ ﴿٣﴾
আপনি কি জানেন, সে হয়তো পরিশুদ্ধ হত,
أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنفَعَهُ ٱلذِّكْرَىٰٓ ﴿٤﴾
অথবা উপদেশ গ্রহণ করতো এবং উপদেশ তার উপকার হত।
أَمَّا مَنِ ٱسْتَغْنَىٰ ﴿٥﴾
পরন্তু যে বেপরোয়া,
فَأَنتَ لَهُۥ تَصَدَّىٰ ﴿٦﴾
আপনি তার চিন্তায় মশগুল।
وَمَا عَلَيْكَ أَلَّا يَزَّكَّىٰ ﴿٧﴾
সে শুদ্ধ না হলে আপনার কোন দোষ নেই।
وَأَمَّا مَن جَآءَكَ يَسْعَىٰ ﴿٨﴾
যে আপনার কাছে দৌড়ে আসলো
وَهُوَ يَخْشَىٰ ﴿٩﴾
এমতাবস্থায় যে, সে ভয় করে,
فَأَنتَ عَنْهُ تَلَهَّىٰ ﴿١٠﴾
আপনি তাকে অবজ্ঞা করলেন।
كَلَّآ إِنَّهَا تَذْكِرَةٌۭ ﴿١١﴾
কখনও এরূপ করবেন না, এটা উপদেশবানী।
فَمَن شَآءَ ذَكَرَهُۥ ﴿١٢﴾
অতএব, যে ইচ্ছা করবে, সে একে গ্রহণ করবে।
فِى صُحُفٍۢ مُّكَرَّمَةٍۢ ﴿١٣﴾
এটা লিখিত আছে সম্মানিত,
مَّرْفُوعَةٍۢ مُّطَهَّرَةٍۭ ﴿١٤﴾
উচ্চ পবিত্র পত্রসমূহে,
بِأَيْدِى سَفَرَةٍۢ ﴿١٥﴾
লিপিকারের হস্তে,
كِرَامٍۭ بَرَرَةٍۢ ﴿١٦﴾
যারা মহৎ, পূত চরিত্র।
قُتِلَ ٱلْإِنسَـٰنُ مَآ أَكْفَرَهُۥ ﴿١٧﴾
মানুষ ধ্বংস হোক, সে কত অকৃতজ্ঞ!
مِنْ أَىِّ شَىْءٍ خَلَقَهُۥ ﴿١٨﴾
তিনি তাকে কি বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছেন?
مِن نُّطْفَةٍ خَلَقَهُۥ فَقَدَّرَهُۥ ﴿١٩﴾
শুক্র থেকে তাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে সুপরিমিত করেছেন।
ثُمَّ ٱلسَّبِيلَ يَسَّرَهُۥ ﴿٢٠﴾
অতঃপর তার পথ সহজ করেছেন,
ثُمَّ أَمَاتَهُۥ فَأَقْبَرَهُۥ ﴿٢١﴾
অতঃপর তার মৃত্যু ঘটান ও কবরস্থ করেন তাকে।
ثُمَّ إِذَا شَآءَ أَنشَرَهُۥ ﴿٢٢﴾
এরপর যখন ইচ্ছা করবেন তখন তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন।
كَلَّا لَمَّا يَقْضِ مَآ أَمَرَهُۥ ﴿٢٣﴾
সে কখনও কৃতজ্ঞ হয়নি, তিনি তাকে যা আদেশ করেছেন, সে তা পূর্ণ করেনি।
فَلْيَنظُرِ ٱلْإِنسَـٰنُ إِلَىٰ طَعَامِهِۦٓ ﴿٢٤﴾
মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক,
أَنَّا صَبَبْنَا ٱلْمَآءَ صَبًّۭا ﴿٢٥﴾
আমি আশ্চর্য উপায়ে পানি বর্ষণ করেছি,
ثُمَّ شَقَقْنَا ٱلْأَرْضَ شَقًّۭا ﴿٢٦﴾
এরপর আমি ভূমিকে বিদীর্ণ করেছি,
فَأَنۢبَتْنَا فِيهَا حَبًّۭا ﴿٢٧﴾
অতঃপর তাতে উৎপন্ন করেছি শস্য,
وَعِنَبًۭا وَقَضْبًۭا ﴿٢٨﴾
আঙ্গুর, শাক-সব্জি,
وَزَيْتُونًۭا وَنَخْلًۭا ﴿٢٩﴾
যয়তুন, খর্জূর,
وَحَدَآئِقَ غُلْبًۭا ﴿٣٠﴾
ঘন উদ্যান,
وَفَـٰكِهَةًۭ وَأَبًّۭا ﴿٣١﴾
ফল এবং ঘাস
مَّتَـٰعًۭا لَّكُمْ وَلِأَنْعَـٰمِكُمْ ﴿٣٢﴾
তোমাদেরও তোমাদের চতুস্পদ জন্তুদের উপাকারার্থে।
فَإِذَا جَآءَتِ ٱلصَّآخَّةُ ﴿٣٣﴾
অতঃপর যেদিন কর্ণবিদারক নাদ আসবে,
يَوْمَ يَفِرُّ ٱلْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ ﴿٣٤﴾
সেদিন পলায়ন করবে মানুষ তার ভ্রাতার কাছ থেকে,
وَأُمِّهِۦ وَأَبِيهِ ﴿٣٥﴾
তার মাতা, তার পিতা,
وَصَـٰحِبَتِهِۦ وَبَنِيهِ ﴿٣٦﴾
তার পত্নী ও তার সন্তানদের কাছ থেকে।
لِكُلِّ ٱمْرِئٍۢ مِّنْهُمْ يَوْمَئِذٍۢ شَأْنٌۭ يُغْنِيهِ ﴿٣٧﴾
সেদিন প্রত্যেকেরই নিজের এক চিন্তা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে।
وُجُوهٌۭ يَوْمَئِذٍۢ مُّسْفِرَةٌۭ ﴿٣٨﴾
অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে উজ্জ্বল,
ضَاحِكَةٌۭ مُّسْتَبْشِرَةٌۭ ﴿٣٩﴾
সহাস্য ও প্রফুল্ল।
وَوُجُوهٌۭ يَوْمَئِذٍ عَلَيْهَا غَبَرَةٌۭ ﴿٤٠﴾
এবং অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে ধুলি ধূসরিত।
تَرْهَقُهَا قَتَرَةٌ ﴿٤١﴾
তাদেরকে কালিমা আচ্ছন্ন করে রাখবে।
أُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْكَفَرَةُ ٱلْفَجَرَةُ ﴿٤٢﴾
তারাই কাফের পাপিষ্ঠের দল।
إِذَا ٱلشَّمْسُ كُوِّرَتْ ﴿١﴾
যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে,
وَإِذَا ٱلنُّجُومُ ٱنكَدَرَتْ ﴿٢﴾
যখন নক্ষত্র মলিন হয়ে যাবে,
وَإِذَا ٱلْجِبَالُ سُيِّرَتْ ﴿٣﴾
যখন পর্বতমালা অপসারিত হবে,
وَإِذَا ٱلْعِشَارُ عُطِّلَتْ ﴿٤﴾
যখন দশ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রীসমূহ উপেক্ষিত হবে;
وَإِذَا ٱلْوُحُوشُ حُشِرَتْ ﴿٥﴾
যখন বন্য পশুরা একত্রিত হয়ে যাবে,
وَإِذَا ٱلْبِحَارُ سُجِّرَتْ ﴿٦﴾
যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে,
وَإِذَا ٱلنُّفُوسُ زُوِّجَتْ ﴿٧﴾
যখন আত্মাসমূহকে যুগল করা হবে,
وَإِذَا ٱلْمَوْءُۥدَةُ سُئِلَتْ ﴿٨﴾
যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে,
بِأَىِّ ذَنۢبٍۢ قُتِلَتْ ﴿٩﴾
কি অপরাধে তাকে হত্য করা হল?
وَإِذَا ٱلصُّحُفُ نُشِرَتْ ﴿١٠﴾
যখন আমলনামা খোলা হবে,
وَإِذَا ٱلسَّمَآءُ كُشِطَتْ ﴿١١﴾
যখন আকাশের আবরণ অপসারিত হবে,
وَإِذَا ٱلْجَحِيمُ سُعِّرَتْ ﴿١٢﴾
যখন জাহান্নামের অগ্নি প্রজ্বলিত করা হবে
وَإِذَا ٱلْجَنَّةُ أُزْلِفَتْ ﴿١٣﴾
এবং যখন জান্নাত সন্নিকটবর্তী হবে,
عَلِمَتْ نَفْسٌۭ مَّآ أَحْضَرَتْ ﴿١٤﴾
তখন প্রত্যেকেই জেনে নিবে সে কি উপস্থিত করেছে।
فَلَآ أُقْسِمُ بِٱلْخُنَّسِ ﴿١٥﴾
আমি শপথ করি যেসব নক্ষত্রগুলো পশ্চাতে সরে যায়।
ٱلْجَوَارِ ٱلْكُنَّسِ ﴿١٦﴾
চলমান হয় ও অদৃশ্য হয়,
وَٱلَّيْلِ إِذَا عَسْعَسَ ﴿١٧﴾
শপথ নিশাবসান ও
وَٱلصُّبْحِ إِذَا تَنَفَّسَ ﴿١٨﴾
প্রভাত আগমন কালের,
إِنَّهُۥ لَقَوْلُ رَسُولٍۢ كَرِيمٍۢ ﴿١٩﴾
নিশ্চয় কোরআন সম্মানিত রসূলের আনীত বাণী,
ذِى قُوَّةٍ عِندَ ذِى ٱلْعَرْشِ مَكِينٍۢ ﴿٢٠﴾
যিনি শক্তিশালী, আরশের মালিকের নিকট মর্যাদাশালী,
مُّطَاعٍۢ ثَمَّ أَمِينٍۢ ﴿٢١﴾
সবার মান্যবর, সেখানকার বিশ্বাসভাজন।
وَمَا صَاحِبُكُم بِمَجْنُونٍۢ ﴿٢٢﴾
এবং তোমাদের সাথী পাগল নন।
وَلَقَدْ رَءَاهُ بِٱلْأُفُقِ ٱلْمُبِينِ ﴿٢٣﴾
তিনি সেই ফেরেশতাকে প্রকাশ্য দিগন্তে দেখেছেন।
وَمَا هُوَ عَلَى ٱلْغَيْبِ بِضَنِينٍۢ ﴿٢٤﴾
তিনি অদৃশ্য বিষয় বলতে কৃপনতা করেন না।
وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَيْطَـٰنٍۢ رَّجِيمٍۢ ﴿٢٥﴾
এটা বিতাড়িত শয়তানের উক্তি নয়।
فَأَيْنَ تَذْهَبُونَ ﴿٢٦﴾
অতএব, তোমরা কোথায় যাচ্ছ?
إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌۭ لِّلْعَـٰلَمِينَ ﴿٢٧﴾
এটা তো কেবল বিশ্বাবাসীদের জন্যে উপদেশ,
لِمَن شَآءَ مِنكُمْ أَن يَسْتَقِيمَ ﴿٢٨﴾
তার জন্যে, যে তোমাদের মধ্যে সোজা চলতে চায়।
وَمَا تَشَآءُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿٢٩﴾
তোমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অভিপ্রায়ের বাইরে অন্য কিছুই ইচ্ছা করতে পার না।
إِذَا ٱلسَّمَآءُ ٱنفَطَرَتْ ﴿١﴾
যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে,
وَإِذَا ٱلْكَوَاكِبُ ٱنتَثَرَتْ ﴿٢﴾
যখন নক্ষত্রসমূহ ঝরে পড়বে,
وَإِذَا ٱلْبِحَارُ فُجِّرَتْ ﴿٣﴾
যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে,
وَإِذَا ٱلْقُبُورُ بُعْثِرَتْ ﴿٤﴾
এবং যখন কবরসমূহ উম্মোচিত হবে,
عَلِمَتْ نَفْسٌۭ مَّا قَدَّمَتْ وَأَخَّرَتْ ﴿٥﴾
তখন প্রত্যেকে জেনে নিবে সে কি অগ্রে প্রেরণ করেছে এবং কি পশ্চাতে ছেড়ে এসেছে।
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلْإِنسَـٰنُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ ٱلْكَرِيمِ ﴿٦﴾
হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহামহিম পালনকর্তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল?
ٱلَّذِى خَلَقَكَ فَسَوَّىٰكَ فَعَدَلَكَ ﴿٧﴾
যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুবিন্যস্ত করেছেন এবং সুষম করেছেন।
فِىٓ أَىِّ صُورَةٍۢ مَّا شَآءَ رَكَّبَكَ ﴿٨﴾
যিনি তোমাকে তাঁর ইচ্ছামত আকৃতিতে গঠন করেছেন।
كَلَّا بَلْ تُكَذِّبُونَ بِٱلدِّينِ ﴿٩﴾
কখনও বিভ্রান্ত হয়ো না; বরং তোমরা দান-প্রতিদানকে মিথ্যা মনে কর।
وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَـٰفِظِينَ ﴿١٠﴾
অবশ্যই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে।
كِرَامًۭا كَـٰتِبِينَ ﴿١١﴾
সম্মানিত আমল লেখকবৃন্দ।
يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ ﴿١٢﴾
তারা জানে যা তোমরা কর।
إِنَّ ٱلْأَبْرَارَ لَفِى نَعِيمٍۢ ﴿١٣﴾
সৎকর্মশীলগণ থাকবে জান্নাতে।
وَإِنَّ ٱلْفُجَّارَ لَفِى جَحِيمٍۢ ﴿١٤﴾
এবং দুষ্কর্মীরা থাকবে জাহান্নামে;
يَصْلَوْنَهَا يَوْمَ ٱلدِّينِ ﴿١٥﴾
তারা বিচার দিবসে তথায় প্রবেশ করবে।
وَمَا هُمْ عَنْهَا بِغَآئِبِينَ ﴿١٦﴾
তারা সেখান থেকে পৃথক হবে না।
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا يَوْمُ ٱلدِّينِ ﴿١٧﴾
আপনি জানেন, বিচার দিবস কি?
ثُمَّ مَآ أَدْرَىٰكَ مَا يَوْمُ ٱلدِّينِ ﴿١٨﴾
অতঃপর আপনি জানেন, বিচার দিবস কি?
يَوْمَ لَا تَمْلِكُ نَفْسٌۭ لِّنَفْسٍۢ شَيْـًۭٔا ۖ وَٱلْأَمْرُ يَوْمَئِذٍۢ لِّلَّهِ ﴿١٩﴾
যেদিন কেউ কারও কোন উপকার করতে পারবে না এবং সেদিন সব কতৃꦣ2468;্ব হবে আল্লাহর।
وَيْلٌۭ لِّلْمُطَفِّفِينَ ﴿١﴾
যারা মাপে কম করে, তাদের জন্যে দুর্ভোগ,
ٱلَّذِينَ إِذَا ٱكْتَالُوا۟ عَلَى ٱلنَّاسِ يَسْتَوْفُونَ ﴿٢﴾
যারা লোকের কাছ থেকে যখন মেপে নেয়, তখন পূর্ণ মাত্রায় নেয়
وَإِذَا كَالُوهُمْ أَو وَّزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ ﴿٣﴾
এবং যখন লোকদেরকে মেপে দেয় কিংবা ওজন করে দেয়, তখন কম করে দেয়।
أَلَا يَظُنُّ أُو۟لَـٰٓئِكَ أَنَّهُم مَّبْعُوثُونَ ﴿٤﴾
তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে।
لِيَوْمٍ عَظِيمٍۢ ﴿٥﴾
সেই মহাদিবসে,
يَوْمَ يَقُومُ ٱلنَّاسُ لِرَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ﴿٦﴾
যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব পালনকর্তার সামনে।
كَلَّآ إِنَّ كِتَـٰبَ ٱلْفُجَّارِ لَفِى سِجِّينٍۢ ﴿٧﴾
এটা কিছুতেই উচিত নয়, নিশ্চয় পাপাচারীদের আমলনামা সিজ্জীনে আছে।
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا سِجِّينٌۭ ﴿٨﴾
আপনি জানেন, সিজ্জীন কি?
كِتَـٰبٌۭ مَّرْقُومٌۭ ﴿٩﴾
এটা লিপিবদ্ধ খাতা।
وَيْلٌۭ يَوْمَئِذٍۢ لِّلْمُكَذِّبِينَ ﴿١٠﴾
সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপকারীদের,
ٱلَّذِينَ يُكَذِّبُونَ بِيَوْمِ ٱلدِّينِ ﴿١١﴾
যারা প্রতিফল দিবসকে মিথ্যারোপ করে।
وَمَا يُكَذِّبُ بِهِۦٓ إِلَّا كُلُّ مُعْتَدٍ أَثِيمٍ ﴿١٢﴾
প্রত্যেক সীমালংঘনকারী পাপিষ্ঠই কেবল একে মিথ্যারোপ করে।
إِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِ ءَايَـٰتُنَا قَالَ أَسَـٰطِيرُ ٱلْأَوَّلِينَ ﴿١٣﴾
তার কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হলে সে বলে, পুরাকালের উপকথা।
كَلَّا ۖ بَلْ ۜ رَانَ عَلَىٰ قُلُوبِهِم مَّا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ ﴿١٤﴾
কখনও না, বরং তারা যা করে, তাই তাদের হৃদয় মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে।
كَلَّآ إِنَّهُمْ عَن رَّبِّهِمْ يَوْمَئِذٍۢ لَّمَحْجُوبُونَ ﴿١٥﴾
কখনও না, তারা সেদিন তাদের পালনকর্তার থেকে পর্দার অন্তরালে থাকবে।
ثُمَّ إِنَّهُمْ لَصَالُوا۟ ٱلْجَحِيمِ ﴿١٦﴾
অতঃপর তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
ثُمَّ يُقَالُ هَـٰذَا ٱلَّذِى كُنتُم بِهِۦ تُكَذِّبُونَ ﴿١٧﴾
এরপর বলা হবে, একেই তো তোমরা মিথ্যারোপ করতে।
كَلَّآ إِنَّ كِتَـٰبَ ٱلْأَبْرَارِ لَفِى عِلِّيِّينَ ﴿١٨﴾
কখনও না, নিশ্চয় সৎলোকদের আমলনামা আছে ইল্লিয়্যীনে।
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا عِلِّيُّونَ ﴿١٩﴾
আপনি জানেন ইল্লিয়্যীন কি?
كِتَـٰبٌۭ مَّرْقُومٌۭ ﴿٢٠﴾
এটা লিপিবদ্ধ খাতা।
يَشْهَدُهُ ٱلْمُقَرَّبُونَ ﴿٢١﴾
আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ একে প্রত্যক্ষ করে।
إِنَّ ٱلْأَبْرَارَ لَفِى نَعِيمٍ ﴿٢٢﴾
নিশ্চয় সৎলোকগণ থাকবে পরম আরামে,
عَلَى ٱلْأَرَآئِكِ يَنظُرُونَ ﴿٢٣﴾
সিংহাসনে বসে অবলোকন করবে।
تَعْرِفُ فِى وُجُوهِهِمْ نَضْرَةَ ٱلنَّعِيمِ ﴿٢٤﴾
আপনি তাদের মুখমন্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের সজীবতা দেখতে পাবেন।
يُسْقَوْنَ مِن رَّحِيقٍۢ مَّخْتُومٍ ﴿٢٥﴾
তাদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় পান করানো হবে।
خِتَـٰمُهُۥ مِسْكٌۭ ۚ وَفِى ذَٰلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ ٱلْمُتَنَـٰفِسُونَ ﴿٢٦﴾
তার মোহর হবে কস্তুরী। এ বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত।
وَمِزَاجُهُۥ مِن تَسْنِيمٍ ﴿٢٧﴾
তার মিশ্রণ হবে তসনীমের পানি।
عَيْنًۭا يَشْرَبُ بِهَا ٱلْمُقَرَّبُونَ ﴿٢٨﴾
এটা একটা ঝরণা, যার পানি পান করবে নৈকট্যশীলগণ।
إِنَّ ٱلَّذِينَ أَجْرَمُوا۟ كَانُوا۟ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يَضْحَكُونَ ﴿٢٩﴾
যারা অপরাধী, তারা বিশ্বাসীদেরকে উপহাস করত।
وَإِذَا مَرُّوا۟ بِهِمْ يَتَغَامَزُونَ ﴿٣٠﴾
এবং তারা যখন তাদের কাছ দিয়ে গমন করত তখন পরস্পরে চোখ টিপে ইশারা করত।
وَإِذَا ٱنقَلَبُوٓا۟ إِلَىٰٓ أَهْلِهِمُ ٱنقَلَبُوا۟ فَكِهِينَ ﴿٣١﴾
তারা যখন তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরত, তখনও হাসাহাসি করে ফিরত।
وَإِذَا رَأَوْهُمْ قَالُوٓا۟ إِنَّ هَـٰٓؤُلَآءِ لَضَآلُّونَ ﴿٣٢﴾
আর যখন তারা বিশ্বাসীদেরকে দেখত, তখন বলত, নিশ্চয় এরা বিভ্রান্ত।
وَمَآ أُرْسِلُوا۟ عَلَيْهِمْ حَـٰفِظِينَ ﴿٣٣﴾
অথচ তারা বিশ্বাসীদের তত্ত্বাবধায়করূপে প্রেরিত হয়নি।
فَٱلْيَوْمَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مِنَ ٱلْكُفَّارِ يَضْحَكُونَ ﴿٣٤﴾
আজ যারা বিশ্বাসী, তারা কাফেরদেরকে উপহাস করছে।
عَلَى ٱلْأَرَآئِكِ يَنظُرُونَ ﴿٣٥﴾
সিংহাসনে বসে, তাদেরকে অবলোকন করছে,
هَلْ ثُوِّبَ ٱلْكُفَّارُ مَا كَانُوا۟ يَفْعَلُونَ ﴿٣٦﴾
কাফেররা যা করত, তার প্রতিফল পেয়েছে তো?
إِذَا ٱلسَّمَآءُ ٱنشَقَّتْ ﴿١﴾
যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে,
وَأَذِنَتْ لِرَبِّهَا وَحُقَّتْ ﴿٢﴾
ও তার পালনকর্তার আদেশ পালন করবে এবং আকাশ এরই উপযুক্ত
وَإِذَا ٱلْأَرْضُ مُدَّتْ ﴿٣﴾
এবং যখন পৃথিবীকে সম্প্রসারিত করা হবে।
وَأَلْقَتْ مَا فِيهَا وَتَخَلَّتْ ﴿٤﴾
এবং পৃথিবী তার গর্ভস্থিত সবকিছু বাইরে নিক্ষেপ করবে ও শুন্যগর্ভ হয়ে যাবে।
وَأَذِنَتْ لِرَبِّهَا وَحُقَّتْ ﴿٥﴾
এবং তার পালনকর্তার আদেশ পালন করবে এবং পৃথিবী এরই উপযুক্ত।
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلْإِنسَـٰنُ إِنَّكَ كَادِحٌ إِلَىٰ رَبِّكَ كَدْحًۭا فَمُلَـٰقِيهِ ﴿٦﴾
হে মানুষ, তোমাকে তোমরা পালনকর্তা পর্যন্ত পৌছতে কষ্ট স্বীকার করতে হবে, অতঃপর তার সাক্ষাৎ ঘটবে।
فَأَمَّا مَنْ أُوتِىَ كِتَـٰبَهُۥ بِيَمِينِهِۦ ﴿٧﴾
যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে
فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًۭا يَسِيرًۭا ﴿٨﴾
তার হিসাব-নিকাশ সহজে হয়ে যাবে
وَيَنقَلِبُ إِلَىٰٓ أَهْلِهِۦ مَسْرُورًۭا ﴿٩﴾
এবং সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে হৃষ্টচিত্তে ফিরে যাবে
وَأَمَّا مَنْ أُوتِىَ كِتَـٰبَهُۥ وَرَآءَ ظَهْرِهِۦ ﴿١٠﴾
এবং যাকে তার আমলনামা পিঠের পশ্চাদ্দিক থেকে দেয়া, হবে,
فَسَوْفَ يَدْعُوا۟ ثُبُورًۭا ﴿١١﴾
সে মৃত্যুকে আহবান করবে,
وَيَصْلَىٰ سَعِيرًا ﴿١٢﴾
এবং জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
إِنَّهُۥ كَانَ فِىٓ أَهْلِهِۦ مَسْرُورًا ﴿١٣﴾
সে তার পরিবার-পরিজনের মধ্যে আনন্দিত ছিল।
إِنَّهُۥ ظَنَّ أَن لَّن يَحُورَ ﴿١٤﴾
সে মনে করত যে, সে কখনও ফিরে যাবে না।
بَلَىٰٓ إِنَّ رَبَّهُۥ كَانَ بِهِۦ بَصِيرًۭا ﴿١٥﴾
কেন যাবে না, তার পালনকর্তা তো তাকে দেখতেন।
فَلَآ أُقْسِمُ بِٱلشَّفَقِ ﴿١٦﴾
আমি শপথ করি সন্ধ্যাকালীন লাল আভার
وَٱلَّيْلِ وَمَا وَسَقَ ﴿١٧﴾
এবং রাত্রির, এবং তাতে যার সমাবেশ ঘটে
وَٱلْقَمَرِ إِذَا ٱتَّسَقَ ﴿١٨﴾
এবং চন্দ্রের, যখন তা পূর্ণরূপ লাভ করে,
لَتَرْكَبُنَّ طَبَقًا عَن طَبَقٍۢ ﴿١٩﴾
নিশ্চয় তোমরা এক সিঁড়ি থেকে আরেক সিঁড়িতে আরোহণ করবে।
فَمَا لَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٢٠﴾
অতএব, তাদের কি হল যে, তারা ঈমান আনে না?
وَإِذَا قُرِئَ عَلَيْهِمُ ٱلْقُرْءَانُ لَا يَسْجُدُونَ ۩ ﴿٢١﴾
যখন তাদের কাছে কোরআন পাঠ করা হয়, তখন সেজদা করে না।
بَلِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ يُكَذِّبُونَ ﴿٢٢﴾
বরং কাফেররা এর প্রতি মিথ্যারোপ করে।
وَٱللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُوعُونَ ﴿٢٣﴾
তারা যা সংরক্ষণ করে, আল্লাহ তা জানেন।
فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ ﴿٢٤﴾
অতএব, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন।
إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ لَهُمْ أَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍۭ ﴿٢٥﴾
কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।
وَٱلسَّمَآءِ ذَاتِ ٱلْبُرُوجِ ﴿١﴾
শপথ গ্রহ-নক্ষত্র শোভিত আকাশের,
وَٱلْيَوْمِ ٱلْمَوْعُودِ ﴿٢﴾
এবং প্রতিশ্রুত দিবসের,
وَشَاهِدٍۢ وَمَشْهُودٍۢ ﴿٣﴾
এবং সেই দিবসের, যে উপস্থিত হয় ও যাতে উপস্থিত হয়
قُتِلَ أَصْحَـٰبُ ٱلْأُخْدُودِ ﴿٤﴾
অভিশপ্ত হয়েছে গর্ত ওয়ালারা অর্থাৎ,
ٱلنَّارِ ذَاتِ ٱلْوَقُودِ ﴿٥﴾
অনেক ইন্ধনের অগ্নিসংযোগকারীরা;
إِذْ هُمْ عَلَيْهَا قُعُودٌۭ ﴿٦﴾
যখন তারা তার কিনারায় বসেছিল।
وَهُمْ عَلَىٰ مَا يَفْعَلُونَ بِٱلْمُؤْمِنِينَ شُهُودٌۭ ﴿٧﴾
এবং তারা বিশ্বাসীদের সাথে যা করেছিল, তা নিরীক্ষণ করছিল।
وَمَا نَقَمُوا۟ مِنْهُمْ إِلَّآ أَن يُؤْمِنُوا۟ بِٱللَّهِ ٱلْعَزِيزِ ٱلْحَمِيدِ ﴿٨﴾
তারা তাদেরকে শাস্তি দিয়েছিল শুধু এ কারণে যে, তারা প্রশংসিত, পরাক্রান্ত আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল,
ٱلَّذِى لَهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ شَهِيدٌ ﴿٩﴾
যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের ক্ষমতার মালিক, আল্লাহর সামনে রয়েছে সবকিছু।
إِنَّ ٱلَّذِينَ فَتَنُوا۟ ٱلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُؤْمِنَـٰتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوبُوا۟ فَلَهُمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَلَهُمْ عَذَابُ ٱلْحَرِيقِ ﴿١٠﴾
যারা মুমিন পুরুষ ও নারীকে নিপীড়ন করেছে, অতঃপর তওবা করেনি, তাদের জন্যে আছে জাহান্নামের শাস্তি, আর আছে দহন যন্ত্রণা,
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ لَهُمْ جَنَّـٰتٌۭ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ ۚ ذَٰلِكَ ٱلْفَوْزُ ٱلْكَبِيرُ ﴿١١﴾
যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্যে আছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় নির্ঝরিণীসমূহ। এটাই মহাসাফল্য।
إِنَّ بَطْشَ رَبِّكَ لَشَدِيدٌ ﴿١٢﴾
নিশ্চয় তোমার পালনকর্তার পাকড়াও অত্যন্ত কঠিন।
إِنَّهُۥ هُوَ يُبْدِئُ وَيُعِيدُ ﴿١٣﴾
তিনিই প্রথমবার অস্তিত্ব দান করেন এবং পুনরায় জীবিত করেন।
وَهُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلْوَدُودُ ﴿١٤﴾
তিনি ক্ষমাশীল, প্রেমময়;
ذُو ٱلْعَرْشِ ٱلْمَجِيدُ ﴿١٥﴾
মহান আরশের অধিকারী।
فَعَّالٌۭ لِّمَا يُرِيدُ ﴿١٦﴾
তিনি যা চান, তাই করেন।
هَلْ أَتَىٰكَ حَدِيثُ ٱلْجُنُودِ ﴿١٧﴾
আপনার কাছে সৈন্যবাহিনীর ইতিবৃত্ত পৌছেছে কি?
فِرْعَوْنَ وَثَمُودَ ﴿١٨﴾
ফেরাউনের এবং সামুদের?
بَلِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فِى تَكْذِيبٍۢ ﴿١٩﴾
বরং যারা কাফের, তারা মিথ্যারোপে রত আছে।
وَٱللَّهُ مِن وَرَآئِهِم مُّحِيطٌۢ ﴿٢٠﴾
আল্লাহ তাদেরকে চতুর্দিক থেকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।
بَلْ هُوَ قُرْءَانٌۭ مَّجِيدٌۭ ﴿٢١﴾
বরং এটা মহান কোরআন,
فِى لَوْحٍۢ مَّحْفُوظٍۭ ﴿٢٢﴾
লওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ।
وَٱلسَّمَآءِ وَٱلطَّارِقِ ﴿١﴾
শপথ আকাশের এবং রাত্রিতে আগমনকারীর।
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا ٱلطَّارِقُ ﴿٢﴾
আপনি জানেন, যে রাত্রিতে আসে সেটা কি?
ٱلنَّجْمُ ٱلثَّاقِبُ ﴿٣﴾
সেটা এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
إِن كُلُّ نَفْسٍۢ لَّمَّا عَلَيْهَا حَافِظٌۭ ﴿٤﴾
প্রত্যেকের উপর একজন তত্ত্বাবধায়ক রয়েছে।
فَلْيَنظُرِ ٱلْإِنسَـٰنُ مِمَّ خُلِقَ ﴿٥﴾
অতএব, মানুষের দেখা উচিত কি বস্তু থেকে সে সৃজিত হয়েছে।
خُلِقَ مِن مَّآءٍۢ دَافِقٍۢ ﴿٦﴾
সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে।
يَخْرُجُ مِنۢ بَيْنِ ٱلصُّلْبِ وَٱلتَّرَآئِبِ ﴿٧﴾
এটা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে।
إِنَّهُۥ عَلَىٰ رَجْعِهِۦ لَقَادِرٌۭ ﴿٨﴾
নিশ্চয় তিনি তাকে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম।
يَوْمَ تُبْلَى ٱلسَّرَآئِرُ ﴿٩﴾
যেদিন গোপন বিষয়াদি পরীক্ষিত হবে,
فَمَا لَهُۥ مِن قُوَّةٍۢ وَلَا نَاصِرٍۢ ﴿١٠﴾
সেদিন তার কোন শক্তি থাকবে না এবং সাহায্যকারীও থাকবে না।
وَٱلسَّمَآءِ ذَاتِ ٱلرَّجْعِ ﴿١١﴾
শপথ চক্রশীল আকাশের
وَٱلْأَرْضِ ذَاتِ ٱلصَّدْعِ ﴿١٢﴾
এবং বিদারনশীল পৃথিবীর
إِنَّهُۥ لَقَوْلٌۭ فَصْلٌۭ ﴿١٣﴾
নিশ্চয় কোরআন সত্য-মিথ্যার ফয়সালা।
وَمَا هُوَ بِٱلْهَزْلِ ﴿١٤﴾
এবং এটা উপহাস নয়।
إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًۭا ﴿١٥﴾
তারা ভীষণ চক্রান্ত করে,
وَأَكِيدُ كَيْدًۭا ﴿١٦﴾
আর আমিও কৌশল করি।
فَمَهِّلِ ٱلْكَـٰفِرِينَ أَمْهِلْهُمْ رُوَيْدًۢا ﴿١٧﴾
অতএব, কাফেরদেরকে অবকাশ দিন, তাদেরকে অবকাশ দিন, কিছু দিনের জন্যে।
سَبِّحِ ٱسْمَ رَبِّكَ ٱلْأَعْلَى ﴿١﴾
আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা বর্ণনা করুন
ٱلَّذِى خَلَقَ فَسَوَّىٰ ﴿٢﴾
যিনি সৃষ্টি করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন।
وَٱلَّذِى قَدَّرَ فَهَدَىٰ ﴿٣﴾
এবং যিনি সুপরিমিত করেছেন ও পথ প্রদর্শন করেছেন
وَٱلَّذِىٓ أَخْرَجَ ٱلْمَرْعَىٰ ﴿٤﴾
এবং যিনি তৃণাদি উৎপন্ন করেছেন,
فَجَعَلَهُۥ غُثَآءً أَحْوَىٰ ﴿٥﴾
অতঃপর করেছেন তাকে কাল আবর্জনা।
سَنُقْرِئُكَ فَلَا تَنسَىٰٓ ﴿٦﴾
আমি আপনাকে পাঠ করাতে থাকব, ফলে আপনি বিস্মৃত হবেন না
إِلَّا مَا شَآءَ ٱللَّهُ ۚ إِنَّهُۥ يَعْلَمُ ٱلْجَهْرَ وَمَا يَخْفَىٰ ﴿٧﴾
আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। নিশ্চয় তিনি জানেন প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়।
وَنُيَسِّرُكَ لِلْيُسْرَىٰ ﴿٨﴾
আমি আপনার জন্যে সহজ শরীয়ত সহজতর করে দেবো।
فَذَكِّرْ إِن نَّفَعَتِ ٱلذِّكْرَىٰ ﴿٩﴾
উপদেশ ফলপ্রসূ হলে উপদেশ দান করুন,
سَيَذَّكَّرُ مَن يَخْشَىٰ ﴿١٠﴾
যে ভয় করে, সে উপদেশ গ্রহণ করবে,
وَيَتَجَنَّبُهَا ٱلْأَشْقَى ﴿١١﴾
আর যে, হতভাগা, সে তা উপেক্ষা করবে,
ٱلَّذِى يَصْلَى ٱلنَّارَ ٱلْكُبْرَىٰ ﴿١٢﴾
সে মহা-অগ্নিতে প্রবেশ করবে।
ثُمَّ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحْيَىٰ ﴿١٣﴾
অতঃপর সেখানে সে মরবেও না, জীবিতও থাকবে না।
قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّىٰ ﴿١٤﴾
নিশ্চয় সাফল্য লাভ করবে সে, যে শুদ্ধ হয়
وَذَكَرَ ٱسْمَ رَبِّهِۦ فَصَلَّىٰ ﴿١٥﴾
এবং তার পালনকর্তার নাম স্মরণ করে, অতঃপর নামায আদায় করে।
بَلْ تُؤْثِرُونَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا ﴿١٦﴾
বস্তুতঃ তোমরা পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দাও,
وَٱلْـَٔاخِرَةُ خَيْرٌۭ وَأَبْقَىٰٓ ﴿١٧﴾
অথচ পরকালের জীবন উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী।
إِنَّ هَـٰذَا لَفِى ٱلصُّحُفِ ٱلْأُولَىٰ ﴿١٨﴾
এটা লিখিত রয়েছে পূর্ববতী কিতাবসমূহে;
صُحُفِ إِبْرَٰهِيمَ وَمُوسَىٰ ﴿١٩﴾
ইব্রাহীম ও মূসার কিতাবসমূহে।
هَلْ أَتَىٰكَ حَدِيثُ ٱلْغَـٰشِيَةِ ﴿١﴾
আপনার কাছে আচ্ছন্নকারী কেয়ামতের বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি?
وُجُوهٌۭ يَوْمَئِذٍ خَـٰشِعَةٌ ﴿٢﴾
অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে লাঞ্ছিত,
عَامِلَةٌۭ نَّاصِبَةٌۭ ﴿٣﴾
ক্লিষ্ট, ক্লান্ত।
تَصْلَىٰ نَارًا حَامِيَةًۭ ﴿٤﴾
তারা জ্বলন্ত আগুনে পতিত হবে।
تُسْقَىٰ مِنْ عَيْنٍ ءَانِيَةٍۢ ﴿٥﴾
তাদেরকে ফুটন্ত নহর থেকে পান করানো হবে।
لَّيْسَ لَهُمْ طَعَامٌ إِلَّا مِن ضَرِيعٍۢ ﴿٦﴾
কন্টকপূর্ণ ঝাড় ব্যতীত তাদের জন্যে কোন খাদ্য নেই।
لَّا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِى مِن جُوعٍۢ ﴿٧﴾
এটা তাদেরকে পুষ্ট করবে না এবং ক্ষুধায়ও উপকার করবে না।
وُجُوهٌۭ يَوْمَئِذٍۢ نَّاعِمَةٌۭ ﴿٨﴾
অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে, সজীব,
لِّسَعْيِهَا رَاضِيَةٌۭ ﴿٩﴾
তাদের কর্মের কারণে সন্তুষ্ট।
فِى جَنَّةٍ عَالِيَةٍۢ ﴿١٠﴾
তারা থাকবে, সুউচ্চ জান্নাতে।
لَّا تَسْمَعُ فِيهَا لَـٰغِيَةًۭ ﴿١١﴾
তথায় শুনবে না কোন অসার কথাবার্তা।
فِيهَا عَيْنٌۭ جَارِيَةٌۭ ﴿١٢﴾
তথায় থাকবে প্রবাহিত ঝরণা।
فِيهَا سُرُرٌۭ مَّرْفُوعَةٌۭ ﴿١٣﴾
তথায় থাকবে উন্নত সুসজ্জিত আসন।
وَأَكْوَابٌۭ مَّوْضُوعَةٌۭ ﴿١٤﴾
এবং সংরক্ষিত পানপাত্র
وَنَمَارِقُ مَصْفُوفَةٌۭ ﴿١٥﴾
এবং সারি সারি গালিচা
وَزَرَابِىُّ مَبْثُوثَةٌ ﴿١٦﴾
এবং বিস্তৃত বিছানো কার্পেট।
أَفَلَا يَنظُرُونَ إِلَى ٱلْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ ﴿١٧﴾
তারা কি উষ্ট্রের প্রতি লক্ষ্য করে না যে, তা কিভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে?
وَإِلَى ٱلسَّمَآءِ كَيْفَ رُفِعَتْ ﴿١٨﴾
এবং আকাশের প্রতি লক্ষ্য করে না যে, তা কিভাবে উচ্চ করা হয়েছে?
وَإِلَى ٱلْجِبَالِ كَيْفَ نُصِبَتْ ﴿١٩﴾
এবং পাহাড়ের দিকে যে, তা কিভাবে স্থাপন করা হয়েছে?
وَإِلَى ٱلْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ ﴿٢٠﴾
এবং পৃথিবীর দিকে যে, তা কিভাবে সমতল বিছানো হয়েছে?
فَذَكِّرْ إِنَّمَآ أَنتَ مُذَكِّرٌۭ ﴿٢١﴾
অতএব, আপনি উপদেশ দিন, আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা,
لَّسْتَ عَلَيْهِم بِمُصَيْطِرٍ ﴿٢٢﴾
আপনি তাদের শাসক নন,
إِلَّا مَن تَوَلَّىٰ وَكَفَرَ ﴿٢٣﴾
কিন্তু যে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও কাফের হয়ে যায়,
فَيُعَذِّبُهُ ٱللَّهُ ٱلْعَذَابَ ٱلْأَكْبَرَ ﴿٢٤﴾
আল্লাহ তাকে মহা আযাব দেবেন।
إِنَّ إِلَيْنَآ إِيَابَهُمْ ﴿٢٥﴾
নিশ্চয় তাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট,
ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا حِسَابَهُم ﴿٢٦﴾
অতঃপর তাদের হিসাব-নিকাশ আমারই দায়িত্ব।
وَٱلْفَجْرِ ﴿١﴾
শপথ ফজরের,
وَلَيَالٍ عَشْرٍۢ ﴿٢﴾
শপথ দশ রাত্রির, শপথ তার,
وَٱلشَّفْعِ وَٱلْوَتْرِ ﴿٣﴾
যা জোড় ও যা বিজোড়
وَٱلَّيْلِ إِذَا يَسْرِ ﴿٤﴾
এবং শপথ রাত্রির যখন তা গত হতে থাকে
هَلْ فِى ذَٰلِكَ قَسَمٌۭ لِّذِى حِجْرٍ ﴿٥﴾
এর মধ্যে আছে শপথ জ্ঞানী ব্যক্তির জন্যে।
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ ﴿٦﴾
আপনি কি লক্ষ্য করেননি, আপনার পালনকর্তা আদ বংশের ইরাম গোত্রের সাথে কি আচরণ করেছিলেন,
إِرَمَ ذَاتِ ٱلْعِمَادِ ﴿٧﴾
যাদের দৈহিক গঠন স্তম্ভ ও খুঁটির ন্যায় দীর্ঘ ছিল এবং
ٱلَّتِى لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِى ٱلْبِلَـٰدِ ﴿٨﴾
যাদের সমান শক্তি ও বলবীর্যে সারা বিশ্বের শহরসমূহে কোন লোক সৃজিত হয়নি
وَثَمُودَ ٱلَّذِينَ جَابُوا۟ ٱلصَّخْرَ بِٱلْوَادِ ﴿٩﴾
এবং সামুদ গোত্রের সাথে, যারা উপত্যকায় পাথর কেটে গৃহ নির্মাণ করেছিল।
وَفِرْعَوْنَ ذِى ٱلْأَوْتَادِ ﴿١٠﴾
এবং বহু কীলকের অধিপতি ফেরাউনের সাথে
ٱلَّذِينَ طَغَوْا۟ فِى ٱلْبِلَـٰدِ ﴿١١﴾
যারা দেশে সীমালঙ্ঘন করেছিল।
فَأَكْثَرُوا۟ فِيهَا ٱلْفَسَادَ ﴿١٢﴾
অতঃপর সেখানে বিস্তর অশান্তি সৃষ্টি করেছিল।
فَصَبَّ عَلَيْهِمْ رَبُّكَ سَوْطَ عَذَابٍ ﴿١٣﴾
অতঃপর আপনার পালনকর্তা তাদেরকে শাস্তির কশাঘাত করলেন।
إِنَّ رَبَّكَ لَبِٱلْمِرْصَادِ ﴿١٤﴾
নিশ্চয় আপনার পালকর্তা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।
فَأَمَّا ٱلْإِنسَـٰنُ إِذَا مَا ٱبْتَلَىٰهُ رَبُّهُۥ فَأَكْرَمَهُۥ وَنَعَّمَهُۥ فَيَقُولُ رَبِّىٓ أَكْرَمَنِ ﴿١٥﴾
মানুষ এরূপ যে, যখন তার পালনকর্তা তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর সম্মান ও অনুগ্রহ দান করেন, তখন বলে, আমার পালনকর্তা আমাকে সম্মান দান করেছেন।
وَأَمَّآ إِذَا مَا ٱبْتَلَىٰهُ فَقَدَرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُۥ فَيَقُولُ رَبِّىٓ أَهَـٰنَنِ ﴿١٦﴾
এবং যখন তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর রিযিক সংকুচিত করে দেন, তখন বলেঃ আমার পালনকর্তা আমাকে হেয় করেছেন।
كَلَّا ۖ بَل لَّا تُكْرِمُونَ ٱلْيَتِيمَ ﴿١٧﴾
এটা অমূলক, বরং তোমরা এতীমকে সম্মান কর না।
وَلَا تَحَـٰٓضُّونَ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلْمِسْكِينِ ﴿١٨﴾
এবং মিসকীনকে অন্নদানে পরস্পরকে উৎসাহিত কর না।
وَتَأْكُلُونَ ٱلتُّرَاثَ أَكْلًۭا لَّمًّۭا ﴿١٩﴾
এবং তোমরা মৃতের ত্যাজ্য সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে কুক্ষিগত করে ফেল
وَتُحِبُّونَ ٱلْمَالَ حُبًّۭا جَمًّۭا ﴿٢٠﴾
এবং তোমরা ধন-সম্পদকে প্রাণভরে ভালবাস।
كَلَّآ إِذَا دُكَّتِ ٱلْأَرْضُ دَكًّۭا دَكًّۭا ﴿٢١﴾
এটা অনুচিত। যখন পৃথিবী চুর্ণ-বিচুর্ণ হবে
وَجَآءَ رَبُّكَ وَٱلْمَلَكُ صَفًّۭا صَفًّۭا ﴿٢٢﴾
এবং আপনার পালনকর্তা ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবেন,
وَجِا۟ىٓءَ يَوْمَئِذٍۭ بِجَهَنَّمَ ۚ يَوْمَئِذٍۢ يَتَذَكَّرُ ٱلْإِنسَـٰنُ وَأَنَّىٰ لَهُ ٱلذِّكْرَىٰ ﴿٢٣﴾
এবং সেদিন জাহান্নামকে আনা হবে, সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু এই স্মরণ তার কি কাজে আসবে?
يَقُولُ يَـٰلَيْتَنِى قَدَّمْتُ لِحَيَاتِى ﴿٢٤﴾
সে বলবেঃ হায়, এ জীবনের জন্যে আমি যদি কিছু অগ্রে প্রেরণ করতাম!
فَيَوْمَئِذٍۢ لَّا يُعَذِّبُ عَذَابَهُۥٓ أَحَدٌۭ ﴿٢٥﴾
সেদিন তার শাস্তির মত শাস্তি কেউ দিবে না।
وَلَا يُوثِقُ وَثَاقَهُۥٓ أَحَدٌۭ ﴿٢٦﴾
এবং তার বন্ধনের মত বন্ধন কেউ দিবে না।
يَـٰٓأَيَّتُهَا ٱلنَّفْسُ ٱلْمُطْمَئِنَّةُ ﴿٢٧﴾
হে প্রশান্ত মন,
ٱرْجِعِىٓ إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةًۭ مَّرْضِيَّةًۭ ﴿٢٨﴾
তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে।
فَٱدْخُلِى فِى عِبَـٰدِى ﴿٢٩﴾
অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও।
وَٱدْخُلِى جَنَّتِى ﴿٣٠﴾
এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।
لَآ أُقْسِمُ بِهَـٰذَا ٱلْبَلَدِ ﴿١﴾
আমি এই নগরীর শপথ করি
وَأَنتَ حِلٌّۢ بِهَـٰذَا ٱلْبَلَدِ ﴿٢﴾
এবং এই নগরীতে আপনার উপর কোন প্রতিবন্ধকতা নেই।
وَوَالِدٍۢ وَمَا وَلَدَ ﴿٣﴾
শপথ জনকের ও যা জন্ম দেয়।
لَقَدْ خَلَقْنَا ٱلْإِنسَـٰنَ فِى كَبَدٍ ﴿٤﴾
নিশ্চয় আমি মানুষকে শ্রমনির্ভররূপে সৃষ্টি করেছি।
أَيَحْسَبُ أَن لَّن يَقْدِرَ عَلَيْهِ أَحَدٌۭ ﴿٥﴾
সে কি মনে করে যে, তার উপর কেউ ক্ষমতাবান হবে না ?
يَقُولُ أَهْلَكْتُ مَالًۭا لُّبَدًا ﴿٦﴾
সে বলেঃ আমি প্রচুর ধন-সম্পদ ব্যয় করেছি।
أَيَحْسَبُ أَن لَّمْ يَرَهُۥٓ أَحَدٌ ﴿٧﴾
সে কি মনে করে যে, তাকে কেউ দেখেনি?
أَلَمْ نَجْعَل لَّهُۥ عَيْنَيْنِ ﴿٨﴾
আমি কি তাকে দেইনি চক্ষুদ্বয়,
وَلِسَانًۭا وَشَفَتَيْنِ ﴿٩﴾
জিহবা ও ওষ্ঠদ্বয় ?
وَهَدَيْنَـٰهُ ٱلنَّجْدَيْنِ ﴿١٠﴾
বস্তুতঃ আমি তাকে দু’টি পথ প্রদর্শন করেছি।
فَلَا ٱقْتَحَمَ ٱلْعَقَبَةَ ﴿١١﴾
অতঃপর সে ধর্মের ঘাঁটিতে প্রবেশ করেনি।
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا ٱلْعَقَبَةُ ﴿١٢﴾
আপনি জানেন, সে ঘাঁটি কি?
فَكُّ رَقَبَةٍ ﴿١٣﴾
তা হচ্ছে দাসমুক্তি
أَوْ إِطْعَـٰمٌۭ فِى يَوْمٍۢ ذِى مَسْغَبَةٍۢ ﴿١٤﴾
অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে অন্নদান।
يَتِيمًۭا ذَا مَقْرَبَةٍ ﴿١٥﴾
এতীম আত্বীয়কে
أَوْ مِسْكِينًۭا ذَا مَتْرَبَةٍۢ ﴿١٦﴾
অথবা ধুলি-ধুসরিত মিসকীনকে
ثُمَّ كَانَ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَتَوَاصَوْا۟ بِٱلصَّبْرِ وَتَوَاصَوْا۟ بِٱلْمَرْحَمَةِ ﴿١٧﴾
অতঃপর তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, যারা ঈমান আনে এবং পরস্পরকে উপদেশ দেয় সবরের ও উপদেশ দেয় দয়ার।
أُو۟لَـٰٓئِكَ أَصْحَـٰبُ ٱلْمَيْمَنَةِ ﴿١٨﴾
তারাই সৌভাগ্যশালী।
وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِـَٔايَـٰتِنَا هُمْ أَصْحَـٰبُ ٱلْمَشْـَٔمَةِ ﴿١٩﴾
আর যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে তারাই হতভাগা।
عَلَيْهِمْ نَارٌۭ مُّؤْصَدَةٌۢ ﴿٢٠﴾
তারা অগ্নিপরিবেষ্টিত অবস্থায় বন্দী থাকবে।
وَٱلشَّمْسِ وَضُحَىٰهَا ﴿١﴾
শপথ সূর্যের ও তার কিরণের,
وَٱلْقَمَرِ إِذَا تَلَىٰهَا ﴿٢﴾
শপথ চন্দ্রের যখন তা সূর্যের পশ্চাতে আসে,
وَٱلنَّهَارِ إِذَا جَلَّىٰهَا ﴿٣﴾
শপথ দিবসের যখন সে সূর্যকে প্রখরভাবে প্রকাশ করে,
وَٱلَّيْلِ إِذَا يَغْشَىٰهَا ﴿٤﴾
শপথ রাত্রির যখন সে সূর্যকে আচ্ছাদিত করে,
وَٱلسَّمَآءِ وَمَا بَنَىٰهَا ﴿٥﴾
শপথ আকাশের এবং যিনি তা নির্মাণ করেছেন, তাঁর।
وَٱلْأَرْضِ وَمَا طَحَىٰهَا ﴿٦﴾
শপথ পৃথিবীর এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন, তাঁর,
وَنَفْسٍۢ وَمَا سَوَّىٰهَا ﴿٧﴾
শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, তাঁর,
فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَىٰهَا ﴿٨﴾
অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন,
قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّىٰهَا ﴿٩﴾
যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়।
وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّىٰهَا ﴿١٠﴾
এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।
كَذَّبَتْ ثَمُودُ بِطَغْوَىٰهَآ ﴿١١﴾
সামুদ সম্প্রদায় অবাধ্যতা বশতঃ মিথ্যারোপ করেছিল।
إِذِ ٱنۢبَعَثَ أَشْقَىٰهَا ﴿١٢﴾
যখন তাদের সর্বাধিক হতভাগ্য ব্যক্তি তৎপর হয়ে উঠেছিল।
فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ ٱللَّهِ نَاقَةَ ٱللَّهِ وَسُقْيَـٰهَا ﴿١٣﴾
অতঃপর আল্লাহর রসূল তাদেরকে বলেছিলেনঃ আল্লাহর উষ্ট্রী ও তাকে পানি পান করানোর ব্যাপারে সতর্ক থাক।
فَكَذَّبُوهُ فَعَقَرُوهَا فَدَمْدَمَ عَلَيْهِمْ رَبُّهُم بِذَنۢبِهِمْ فَسَوَّىٰهَا ﴿١٤﴾
অতঃপর ওরা তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল এবং উষ্ট্রীর পা কর্তন করেছিল। তাদের পাপের কারণে তাদের পালনকর্তা তাদের উপর ধ্বংস নাযিল করে একাকার করে দিলেন।
وَلَا يَخَافُ عُقْبَـٰهَا ﴿١٥﴾
আল্লাহ তা’আলা এই ধ্বংসের কোন বিরূপ পরিণতির আশংকা করেন না।
وَٱلَّيْلِ إِذَا يَغْشَىٰ ﴿١﴾
শপথ রাত্রির, যখন সে আচ্ছন্ন করে,
وَٱلنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّىٰ ﴿٢﴾
শপথ দিনের, যখন সে আলোকিত হয়
وَمَا خَلَقَ ٱلذَّكَرَ وَٱلْأُنثَىٰٓ ﴿٣﴾
এবং তাঁর, যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন,
إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّىٰ ﴿٤﴾
নিশ্চয় তোমাদের কর্ম প্রচেষ্টা বিভিন্ন ধরনের।
فَأَمَّا مَنْ أَعْطَىٰ وَٱتَّقَىٰ ﴿٥﴾
অতএব, যে দান করে এবং খোদাভীরু হয়,
وَصَدَّقَ بِٱلْحُسْنَىٰ ﴿٦﴾
এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে,
فَسَنُيَسِّرُهُۥ لِلْيُسْرَىٰ ﴿٧﴾
আমি তাকে সুখের বিষয়ের জন্যে সহজ পথ দান করব।
وَأَمَّا مَنۢ بَخِلَ وَٱسْتَغْنَىٰ ﴿٨﴾
আর যে কৃপণতা করে ও বেপরওয়া হয়
وَكَذَّبَ بِٱلْحُسْنَىٰ ﴿٩﴾
এবং উত্তম বিষয়কে মিথ্যা মনে করে,
فَسَنُيَسِّرُهُۥ لِلْعُسْرَىٰ ﴿١٠﴾
আমি তাকে কষ্টের বিষয়ের জন্যে সহজ পথ দান করব।
وَمَا يُغْنِى عَنْهُ مَالُهُۥٓ إِذَا تَرَدَّىٰٓ ﴿١١﴾
যখন সে অধঃপতিত হবে, তখন তার সম্পদ তার কোনই কাজে আসবে না।
إِنَّ عَلَيْنَا لَلْهُدَىٰ ﴿١٢﴾
আমার দায়িত্ব পথ প্রদর্শন করা।
وَإِنَّ لَنَا لَلْـَٔاخِرَةَ وَٱلْأُولَىٰ ﴿١٣﴾
আর আমি মালিক ইহকালের ও পরকালের।
فَأَنذَرْتُكُمْ نَارًۭا تَلَظَّىٰ ﴿١٤﴾
অতএব, আমি তোমাদেরকে প্রজ্বলিত অগ্নি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছি।
لَا يَصْلَىٰهَآ إِلَّا ٱلْأَشْقَى ﴿١٥﴾
এতে নিতান্ত হতভাগ্য ব্যক্তিই প্রবেশ করবে,
ٱلَّذِى كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ ﴿١٦﴾
যে মিথ্যারোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।
وَسَيُجَنَّبُهَا ٱلْأَتْقَى ﴿١٧﴾
এ থেকে দূরে রাখা হবে খোদাভীরু ব্যক্তিকে,
ٱلَّذِى يُؤْتِى مَالَهُۥ يَتَزَكَّىٰ ﴿١٨﴾
যে আত্নশুদ্ধির জন্যে তার ধন-সম্পদ দান করে।
وَمَا لِأَحَدٍ عِندَهُۥ مِن نِّعْمَةٍۢ تُجْزَىٰٓ ﴿١٩﴾
এবং তার উপর কারও কোন প্রতিদানযোগ্য অনুগ্রহ থাকে না।
إِلَّا ٱبْتِغَآءَ وَجْهِ رَبِّهِ ٱلْأَعْلَىٰ ﴿٢٠﴾
তার মহান পালনকর্তার সন্তুষ্টি অন্বেষণ ব্যতীত।
وَلَسَوْفَ يَرْضَىٰ ﴿٢١﴾
সে সত্বরই সন্তুষ্টি লাভ করবে।
وَٱلضُّحَىٰ ﴿١﴾
শপথ পূর্বাহ্নের,
وَٱلَّيْلِ إِذَا سَجَىٰ ﴿٢﴾
শপথ রাত্রির যখন তা গভীর হয়,
مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَىٰ ﴿٣﴾
আপনার পালনকর্তা আপনাকে ত্যাগ করেনি এবং আপনার প্রতি বিরূপও হননি।
وَلَلْـَٔاخِرَةُ خَيْرٌۭ لَّكَ مِنَ ٱلْأُولَىٰ ﴿٤﴾
আপনার জন্যে পরকাল ইহকাল অপেক্ষা শ্রেয়।
وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَىٰٓ ﴿٥﴾
আপনার পালনকর্তা সত্বরই আপনাকে দান করবেন, অতঃপর আপনি সন্তুষ্ট হবেন।
أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيمًۭا فَـَٔاوَىٰ ﴿٦﴾
তিনি কি আপনাকে এতীমরূপে পাননি? অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন।
وَوَجَدَكَ ضَآلًّۭا فَهَدَىٰ ﴿٧﴾
তিনি আপনাকে পেয়েছেন পথহারা, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন।
وَوَجَدَكَ عَآئِلًۭا فَأَغْنَىٰ ﴿٨﴾
তিনি আপনাকে পেয়েছেন নিঃস্ব, অতঃপর অভাবমুক্ত করেছেন।
فَأَمَّا ٱلْيَتِيمَ فَلَا تَقْهَرْ ﴿٩﴾
সুতরাং আপনি এতীমের প্রতি কঠোর হবেন না;
وَأَمَّا ٱلسَّآئِلَ فَلَا تَنْهَرْ ﴿١٠﴾
সওয়ালকারীকে ধমক দেবেন না।
وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ ﴿١١﴾
এবং আপনার পালনকর্তার নেয়ামতের কথা প্রকাশ করুন।
أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ ﴿١﴾
আমি কি আপনার বক্ষ উম্মুক্ত করে দেইনি?
وَوَضَعْنَا عَنكَ وِزْرَكَ ﴿٢﴾
আমি লাঘব করেছি আপনার বোঝা,
ٱلَّذِىٓ أَنقَضَ ظَهْرَكَ ﴿٣﴾
যা ছিল আপনার জন্যে অতিশয় দুঃসহ।
وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ ﴿٤﴾
আমি আপনার আলোচনাকে সমুচ্চ করেছি।
فَإِنَّ مَعَ ٱلْعُسْرِ يُسْرًا ﴿٥﴾
নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।
إِنَّ مَعَ ٱلْعُسْرِ يُسْرًۭا ﴿٦﴾
নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।
فَإِذَا فَرَغْتَ فَٱنصَبْ ﴿٧﴾
অতএব, যখন অবসর পান পরিশ্রম করুন।
وَإِلَىٰ رَبِّكَ فَٱرْغَب ﴿٨﴾
এবং আপনার পালনকর্তার প্রতি মনোনিবেশ করুন।
وَٱلتِّينِ وَٱلزَّيْتُونِ ﴿١﴾
শপথ আঞ্জীর (ডুমুর) ও যয়তুনের,
وَطُورِ سِينِينَ ﴿٢﴾
এবং সিনাই প্রান্তরস্থ তূর পর্বতের,
وَهَـٰذَا ٱلْبَلَدِ ٱلْأَمِينِ ﴿٣﴾
এবং এই নিরাপদ নগরীর।
لَقَدْ خَلَقْنَا ٱلْإِنسَـٰنَ فِىٓ أَحْسَنِ تَقْوِيمٍۢ ﴿٤﴾
আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে।
ثُمَّ رَدَدْنَـٰهُ أَسْفَلَ سَـٰفِلِينَ ﴿٥﴾
অতঃপর তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি নীচ থেকে নীচে।
إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ فَلَهُمْ أَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍۢ ﴿٦﴾
কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে অশেষ পুরস্কার।
فَمَا يُكَذِّبُكَ بَعْدُ بِٱلدِّينِ ﴿٧﴾
অতঃপর কেন তুমি অবিশ্বাস করছ কেয়ামতকে?
أَلَيْسَ ٱللَّهُ بِأَحْكَمِ ٱلْحَـٰكِمِينَ ﴿٨﴾
আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্টতম বিচারক নন?
ٱقْرَأْ بِٱسْمِ رَبِّكَ ٱلَّذِى خَلَقَ ﴿١﴾
পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন
خَلَقَ ٱلْإِنسَـٰنَ مِنْ عَلَقٍ ﴿٢﴾
সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে।
ٱقْرَأْ وَرَبُّكَ ٱلْأَكْرَمُ ﴿٣﴾
পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু,
ٱلَّذِى عَلَّمَ بِٱلْقَلَمِ ﴿٤﴾
যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন,
عَلَّمَ ٱلْإِنسَـٰنَ مَا لَمْ يَعْلَمْ ﴿٥﴾
শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।
كَلَّآ إِنَّ ٱلْإِنسَـٰنَ لَيَطْغَىٰٓ ﴿٦﴾
সত্যি সত্যি মানুষ সীমালংঘন করে,
أَن رَّءَاهُ ٱسْتَغْنَىٰٓ ﴿٧﴾
এ কারণে যে, সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে।
إِنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ ٱلرُّجْعَىٰٓ ﴿٨﴾
নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার দিকেই প্রত্যাবর্তন হবে।
أَرَءَيْتَ ٱلَّذِى يَنْهَىٰ ﴿٩﴾
আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে নিষেধ করে
عَبْدًا إِذَا صَلَّىٰٓ ﴿١٠﴾
এক বান্দাকে যখন সে নামায পড়ে?
أَرَءَيْتَ إِن كَانَ عَلَى ٱلْهُدَىٰٓ ﴿١١﴾
আপনি কি দেখেছেন যদি সে সৎপথে থাকে।
أَوْ أَمَرَ بِٱلتَّقْوَىٰٓ ﴿١٢﴾
অথবা খোদাভীতি শিক্ষা দেয়।
أَرَءَيْتَ إِن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰٓ ﴿١٣﴾
আপনি কি দেখেছেন, যদি সে মিথ্যারোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।
أَلَمْ يَعْلَم بِأَنَّ ٱللَّهَ يَرَىٰ ﴿١٤﴾
সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখেন?
كَلَّا لَئِن لَّمْ يَنتَهِ لَنَسْفَعًۢا بِٱلنَّاصِيَةِ ﴿١٥﴾
কখনই নয়, যদি সে বিরত না হয়, তবে আমি মস্তকের সামনের কেশগুচ্ছ ধরে হেঁচড়াবই-
نَاصِيَةٍۢ كَـٰذِبَةٍ خَاطِئَةٍۢ ﴿١٦﴾
মিথ্যাচারী, পাপীর কেশগুচ্ছ।
فَلْيَدْعُ نَادِيَهُۥ ﴿١٧﴾
অতএব, সে তার সভাসদদেরকে আহবান করুক।
سَنَدْعُ ٱلزَّبَانِيَةَ ﴿١٨﴾
আমিও আহবান করব জাহান্নামের প্রহরীদেরকে
كَلَّا لَا تُطِعْهُ وَٱسْجُدْ وَٱقْتَرِب ۩ ﴿١٩﴾
কখনই নয়, আপনি তার আনুগত্য করবেন না। আপনি সেজদা করুন ও আমার নৈকট্য অর্জন করুন।
إِنَّآ أَنزَلْنَـٰهُ فِى لَيْلَةِ ٱلْقَدْرِ ﴿١﴾
আমি একে নাযিল করেছি শবে-কদরে।
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ ﴿٢﴾
শবে-কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন?
لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ خَيْرٌۭ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍۢ ﴿٣﴾
শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
تَنَزَّلُ ٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍۢ ﴿٤﴾
এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।
سَلَـٰمٌ هِىَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ ٱلْفَجْرِ ﴿٥﴾
এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
لَمْ يَكُنِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَـٰبِ وَٱلْمُشْرِكِينَ مُنفَكِّينَ حَتَّىٰ تَأْتِيَهُمُ ٱلْبَيِّنَةُ ﴿١﴾
আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের ছিল, তারা প্রত্যাবর্তন করত না যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসত।
رَسُولٌۭ مِّنَ ٱللَّهِ يَتْلُوا۟ صُحُفًۭا مُّطَهَّرَةًۭ ﴿٢﴾
অর্থাৎ আল্লাহর একজন রসূল, যিনি আবৃত্তি করতেন পবিত্র সহীফা,
فِيهَا كُتُبٌۭ قَيِّمَةٌۭ ﴿٣﴾
যাতে আছে, সঠিক বিষয়বস্তু।
وَمَا تَفَرَّقَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَـٰبَ إِلَّا مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْهُمُ ٱلْبَيِّنَةُ ﴿٤﴾
অপর কিতাব প্রাপ্তরা যে বিভ্রান্ত হয়েছে, তা হয়েছে তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরেই।
وَمَآ أُمِرُوٓا۟ إِلَّا لِيَعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ وَيُقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤْتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ ۚ وَذَٰلِكَ دِينُ ٱلْقَيِّمَةِ ﴿٥﴾
তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম।
إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَـٰبِ وَٱلْمُشْرِكِينَ فِى نَارِ جَهَنَّمَ خَـٰلِدِينَ فِيهَآ ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ هُمْ شَرُّ ٱلْبَرِيَّةِ ﴿٦﴾
আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম।
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ أُو۟لَـٰٓئِكَ هُمْ خَيْرُ ٱلْبَرِيَّةِ ﴿٧﴾
যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই সৃষ্টির সেরা।
جَزَآؤُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ جَنَّـٰتُ عَدْنٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ خَـٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًۭا ۖ رَّضِىَ ٱللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا۟ عَنْهُ ۚ ذَٰلِكَ لِمَنْ خَشِىَ رَبَّهُۥ ﴿٨﴾
তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে তাদের প্রতিদান চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্যে, যে তার পালনকর্তাকে ভয় কর।
إِذَا زُلْزِلَتِ ٱلْأَرْضُ زِلْزَالَهَا ﴿١﴾
যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে,
وَأَخْرَجَتِ ٱلْأَرْضُ أَثْقَالَهَا ﴿٢﴾
যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে।
وَقَالَ ٱلْإِنسَـٰنُ مَا لَهَا ﴿٣﴾
এবং মানুষ বলবে, এর কি হল ?
يَوْمَئِذٍۢ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا ﴿٤﴾
সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে,
بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَىٰ لَهَا ﴿٥﴾
কারণ, আপনার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন।
يَوْمَئِذٍۢ يَصْدُرُ ٱلنَّاسُ أَشْتَاتًۭا لِّيُرَوْا۟ أَعْمَـٰلَهُمْ ﴿٦﴾
সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়।
فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًۭا يَرَهُۥ ﴿٧﴾
অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে
وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍۢ شَرًّۭا يَرَهُۥ ﴿٨﴾
এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।
وَٱلْعَـٰدِيَـٰتِ ضَبْحًۭا ﴿١﴾
শপথ উর্ধ্বশ্বাসে চলমান অশ্বসমূহের,
فَٱلْمُورِيَـٰتِ قَدْحًۭا ﴿٢﴾
অতঃপর ক্ষুরাঘাতে অগ্নিবিচ্ছুরক অশ্বসমূহের
فَٱلْمُغِيرَٰتِ صُبْحًۭا ﴿٣﴾
অতঃপর প্রভাতকালে আক্রমণকারী অশ্বসমূহের
فَأَثَرْنَ بِهِۦ نَقْعًۭا ﴿٤﴾
ও যারা সে সময়ে ধুলি উৎক্ষিপ্ত করে
فَوَسَطْنَ بِهِۦ جَمْعًا ﴿٥﴾
অতঃপর যারা শক্রদলের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে-
إِنَّ ٱلْإِنسَـٰنَ لِرَبِّهِۦ لَكَنُودٌۭ ﴿٦﴾
নিশ্চয় মানুষ তার পালনকর্তার প্রতি অকৃতজ্ঞ।
وَإِنَّهُۥ عَلَىٰ ذَٰلِكَ لَشَهِيدٌۭ ﴿٧﴾
এবং সে অবশ্য এ বিষয়ে অবহিত
وَإِنَّهُۥ لِحُبِّ ٱلْخَيْرِ لَشَدِيدٌ ﴿٨﴾
এবং সে নিশ্চিতই ধন-সম্পদের ভালবাসায় মত্ত।
۞ أَفَلَا يَعْلَمُ إِذَا بُعْثِرَ مَا فِى ٱلْقُبُورِ ﴿٩﴾
সে কি জানে না, যখন কবরে যা আছে, তা উত্থিত হবে
وَحُصِّلَ مَا فِى ٱلصُّدُورِ ﴿١٠﴾
এবং অন্তরে যা আছে, তা অর্জন করা হবে?
إِنَّ رَبَّهُم بِهِمْ يَوْمَئِذٍۢ لَّخَبِيرٌۢ ﴿١١﴾
সেদিন তাদের কি হবে, সে সম্পর্কে তাদের পালনকর্তা সবিশেষ জ্ঞাত।
ٱلْقَارِعَةُ ﴿١﴾
করাঘাতকারী,
مَا ٱلْقَارِعَةُ ﴿٢﴾
করাঘাতকারী কি?
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا ٱلْقَارِعَةُ ﴿٣﴾
করাঘাতকারী সম্পর্কে আপনি কি জানেন ?
يَوْمَ يَكُونُ ٱلنَّاسُ كَٱلْفَرَاشِ ٱلْمَبْثُوثِ ﴿٤﴾
যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতংগের মত
وَتَكُونُ ٱلْجِبَالُ كَٱلْعِهْنِ ٱلْمَنفُوشِ ﴿٥﴾
এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙ্গীন পশমের মত।
فَأَمَّا مَن ثَقُلَتْ مَوَٰزِينُهُۥ ﴿٦﴾
অতএব যার পাল্লা ভারী হবে,
فَهُوَ فِى عِيشَةٍۢ رَّاضِيَةٍۢ ﴿٧﴾
সে সুখীজীবন যাপন করবে।
وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَٰزِينُهُۥ ﴿٨﴾
আর যার পাল্লা হালকা হবে,
فَأُمُّهُۥ هَاوِيَةٌۭ ﴿٩﴾
তার ঠিকানা হবে হাবিয়া।
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا هِيَهْ ﴿١٠﴾
আপনি জানেন তা কি?
نَارٌ حَامِيَةٌۢ ﴿١١﴾
প্রজ্জ্বলিত অগ্নি!
أَلْهَىٰكُمُ ٱلتَّكَاثُرُ ﴿١﴾
প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে,
حَتَّىٰ زُرْتُمُ ٱلْمَقَابِرَ ﴿٢﴾
এমনকি, তোমরা কবরস্থানে পৌছে যাও।
كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ ﴿٣﴾
এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে।
ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ ﴿٤﴾
অতঃপর এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে।
كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ ٱلْيَقِينِ ﴿٥﴾
কখনই নয়; যদি তোমরা নিশ্চিত জানতে।
لَتَرَوُنَّ ٱلْجَحِيمَ ﴿٦﴾
তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে,
ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ ٱلْيَقِينِ ﴿٧﴾
অতঃপর তোমরা তা অবশ্যই দেখবে দিব্য প্রত্যয়ে,
ثُمَّ لَتُسْـَٔلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ ٱلنَّعِيمِ ﴿٨﴾
এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
وَٱلْعَصْرِ ﴿١﴾
কসম যুগের (সময়ের),
إِنَّ ٱلْإِنسَـٰنَ لَفِى خُسْرٍ ﴿٢﴾
নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত;
إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ وَتَوَاصَوْا۟ بِٱلْحَقِّ وَتَوَاصَوْا۟ بِٱلصَّبْرِ ﴿٣﴾
কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের।
وَيْلٌۭ لِّكُلِّ هُمَزَةٍۢ لُّمَزَةٍ ﴿١﴾
প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ,
ٱلَّذِى جَمَعَ مَالًۭا وَعَدَّدَهُۥ ﴿٢﴾
যে অর্থ সঞ্চিত করে ও গণনা করে
يَحْسَبُ أَنَّ مَالَهُۥٓ أَخْلَدَهُۥ ﴿٣﴾
সে মনে করে যে, তার অর্থ চিরকাল তার সাথে থাকবে!
كَلَّا ۖ لَيُنۢبَذَنَّ فِى ٱلْحُطَمَةِ ﴿٤﴾
কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্টকারীর মধ্যে।
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا ٱلْحُطَمَةُ ﴿٥﴾
আপনি কি জানেন, পিষ্টকারী কি?
نَارُ ٱللَّهِ ٱلْمُوقَدَةُ ﴿٦﴾
এটা আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত অগ্নি,
ٱلَّتِى تَطَّلِعُ عَلَى ٱلْأَفْـِٔدَةِ ﴿٧﴾
যা হৃদয় পর্যন্ত পৌছবে।
إِنَّهَا عَلَيْهِم مُّؤْصَدَةٌۭ ﴿٨﴾
এতে তাদেরকে বেঁধে দেয়া হবে,
فِى عَمَدٍۢ مُّمَدَّدَةٍۭ ﴿٩﴾
লম্বা লম্বা খুঁটিতে।
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَـٰبِ ٱلْفِيلِ ﴿١﴾
আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হস্তীবাহিনীর সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন?
أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِى تَضْلِيلٍۢ ﴿٢﴾
তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি?
وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ ﴿٣﴾
তিনি তাদের উপর প্রেরণ করেছেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী,
تَرْمِيهِم بِحِجَارَةٍۢ مِّن سِجِّيلٍۢ ﴿٤﴾
যারা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করছিল।
فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍۢ مَّأْكُولٍۭ ﴿٥﴾
অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দেন।
لِإِيلَـٰفِ قُرَيْشٍ ﴿١﴾
কোরাইশের আসক্তির কারণে,
إِۦلَـٰفِهِمْ رِحْلَةَ ٱلشِّتَآءِ وَٱلصَّيْفِ ﴿٢﴾
আসক্তির কারণে তাদের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের।
فَلْيَعْبُدُوا۟ رَبَّ هَـٰذَا ٱلْبَيْتِ ﴿٣﴾
অতএব তারা যেন এবাদত করে এই ঘরের পালনকর্তার
ٱلَّذِىٓ أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍۢ وَءَامَنَهُم مِّنْ خَوْفٍۭ ﴿٤﴾
যিনি তাদেরকে ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন এবং যুদ্ধভীতি থেকে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন।
أَرَءَيْتَ ٱلَّذِى يُكَذِّبُ بِٱلدِّينِ ﴿١﴾
আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে বিচারদিবসকে মিথ্যা বলে?
فَذَٰلِكَ ٱلَّذِى يَدُعُّ ٱلْيَتِيمَ ﴿٢﴾
সে সেই ব্যক্তি, যে এতীমকে গলা ধাক্কা দেয়
وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلْمِسْكِينِ ﴿٣﴾
এবং মিসকীনকে অন্ন দিতে উৎসাহিত করে না।
فَوَيْلٌۭ لِّلْمُصَلِّينَ ﴿٤﴾
অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাযীর,
ٱلَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ ﴿٥﴾
যারা তাদের নামায সম্বন্ধে বে-খবর;
ٱلَّذِينَ هُمْ يُرَآءُونَ ﴿٦﴾
যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে
وَيَمْنَعُونَ ٱلْمَاعُونَ ﴿٧﴾
এবং নিত্য ব্যবহার্য্য বস্তু অন্যকে দেয় না।
إِنَّآ أَعْطَيْنَـٰكَ ٱلْكَوْثَرَ ﴿١﴾
নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি।
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَٱنْحَرْ ﴿٢﴾
অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন।
إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ ٱلْأَبْتَرُ ﴿٣﴾
যে আপনার শত্রু, সেই তো লেজকাটা, নির্বংশ।
قُلْ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلْكَـٰفِرُونَ ﴿١﴾
বলুন, হে কাফেরকূল,
لَآ أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ ﴿٢﴾
আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর।
وَلَآ أَنتُمْ عَـٰبِدُونَ مَآ أَعْبُدُ ﴿٣﴾
এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি
وَلَآ أَنَا۠ عَابِدٌۭ مَّا عَبَدتُّمْ ﴿٤﴾
এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর।
وَلَآ أَنتُمْ عَـٰبِدُونَ مَآ أَعْبُدُ ﴿٥﴾
তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি।
لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِىَ دِينِ ﴿٦﴾
তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।
إِذَا جَآءَ نَصْرُ ٱللَّهِ وَٱلْفَتْحُ ﴿١﴾
যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়
وَرَأَيْتَ ٱلنَّاسَ يَدْخُلُونَ فِى دِينِ ٱللَّهِ أَفْوَاجًۭا ﴿٢﴾
এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন,
فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَٱسْتَغْفِرْهُ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ تَوَّابًۢا ﴿٣﴾
তখন আপনি আপনার পালনকর্তার পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী।
تَبَّتْ يَدَآ أَبِى لَهَبٍۢ وَتَبَّ ﴿١﴾
আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে,
مَآ أَغْنَىٰ عَنْهُ مَالُهُۥ وَمَا كَسَبَ ﴿٢﴾
কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে।
سَيَصْلَىٰ نَارًۭا ذَاتَ لَهَبٍۢ ﴿٣﴾
সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে
وَٱمْرَأَتُهُۥ حَمَّالَةَ ٱلْحَطَبِ ﴿٤﴾
এবং তার স্ত্রীও-যে ইন্ধন বহন করে,
فِى جِيدِهَا حَبْلٌۭ مِّن مَّسَدٍۭ ﴿٥﴾
তার গলদেশে খর্জুরের রশি নিয়ে।
قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ﴿١﴾
বলুন, তিনি আল্লাহ, এক,
ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ﴿٢﴾
আল্লাহ অমুখাপেক্ষী,
لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ﴿٣﴾
তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি
وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ ﴿٤﴾
এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلْفَلَقِ ﴿١﴾
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার,
مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ﴿٢﴾
তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে,
وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ﴿٣﴾
অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়,
وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّـٰثَـٰتِ فِى ٱلْعُقَدِ ﴿٤﴾
গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে
وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ﴿٥﴾
এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ ﴿١﴾
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার,
مَلِكِ ٱلنَّاسِ ﴿٢﴾
মানুষের অধিপতির,
إِلَـٰهِ ٱلنَّاسِ ﴿٣﴾
মানুষের মা’বুদের
مِن شَرِّ ٱلْوَسْوَاسِ ٱلْخَنَّاسِ ﴿٤﴾
তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে,
ٱلَّذِى يُوَسْوِسُ فِى صُدُورِ ٱلنَّاسِ ﴿٥﴾
যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে
مِنَ ٱلْجِنَّةِ وَٱلنَّاسِ ﴿٦﴾
জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।